মাটিতে স্তূপ করে রাখা ওষুধ, স্যাঁতসেঁতে ঘরে মেডিকেল স্টোর—মেদিনীপুর মেডিকেলে নতুন বিতর্ক!
সেখ ওয়ারেশ আলী : আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। এবার অভিযোগ, হাসপাতালের মেডিকেল স্টোর দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছে একটি পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ ভবনে। ফলে সেখানে সংরক্ষিত ওষুধের গুণগত মান ও নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। রোগীদের জীবন নিয়ে চরম অবহেলা করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। ২০২৫ সালের বহুচর্চিত স্যালাইন-কাণ্ড এবং সম্প্রতি মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন বিতরণের অভিযোগের পর ফের হাসপাতালের ওষুধ সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আচমকাই মেডিকেল স্টোর পরিদর্শনে যান মেদিনীপুরের বিধায়ক শঙ্কর গুছাইত। স্টোরের বর্তমান অবস্থা দেখে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং একাধিক অনিয়মের অভিযোগ তোলেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের স্যালাইন-কাণ্ডের পর রাজ্য সরকার রাজ্যের সমস্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেলা মেডিকেল স্টোরের জন্য একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) জারি করেছিল। সেই নির্দেশিকায় ন্যূনতম ৮ হাজার বর্গফুট জায়গা, আধুনিক কোল্ড-চেইন ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা, জেনারেটর-সহ বিদ্যুৎ ব্যাকআপ, নির্দিষ্ট নিয়মে ওষুধ সংরক্ষণ এবং কোনও অবস্থাতেই মাটিতে ওষুধ না রাখার মতো একাধিক নির্দেশ ছিল।
কিন্তু অভিযোগ, মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল স্টোরে এই নির্দেশিকার অধিকাংশই মানা হচ্ছে না। ভগ্নপ্রায় একটি ভবনের মধ্যেই বিপুল পরিমাণ ওষুধ সংরক্ষণ করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত র্যাকের অভাবে বহু ওষুধ মাটিতে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। বর্ষাকালে ছাদ চুঁইয়ে জল ঢুকে ওষুধ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। কোল্ড-চেইন বজায় রাখতে রয়েছে মাত্র তিনটি ফ্রিজ। পাশাপাশি স্টোরের স্যাঁতসেঁতে দেওয়াল, অপরিষ্কার পরিবেশ এবং ইঁদুরের গর্তও নজরে এসেছে। উদ্বেগের বিষয়, এই মেডিকেল স্টোর থেকেই প্রতিদিন হাসপাতালের ইনডোর ও আউটডোর বিভাগের রোগীদের জন্য ওষুধ সরবরাহ করা হয়। ফলে ওষুধের গুণগত মান নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে।
পরিদর্শনের পর বিধায়ক শঙ্কর গুছাইত অভিযোগ করেন, গত পনেরো বছরে পরিকাঠামোগত উন্নয়নের পরিবর্তে দুর্নীতি ও কাটমানির রাজনীতির জেরে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজের এই বেহাল অবস্থা তৈরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, রোগীদের স্বাস্থ্য নিয়ে কোনওরকম আপস করা যায় না। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য তিনি রাজ্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন বলে জানান। অন্যদিকে হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপার তথা ভাইস প্রিন্সিপাল (MSVP) ডা. ইন্দ্রনীল সেন জানান, গত পাঁচ বছর ধরে নতুন মেডিকেল স্টোর ভবন নির্মাণের জন্য স্বাস্থ্য ভবনে একাধিকবার আবেদন জানানো হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত সেই প্রকল্পে অনুমোদন মেলেনি। তিনি স্বীকার করেন, বর্তমান স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে দীর্ঘদিন ওষুধ সংরক্ষণ করলে তার গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এদিকে হাসপাতালের মেডিকেল স্টোরের এই পরিস্থিতি প্রকাশ্যে আসার পর রোগী ও তাঁদের পরিজনদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তুলে নিরাপদ ওষুধ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।