ভোটার তালিকা থেকে নাম উধাও, তবু ভোটকর্মীর দায়িত্ব! মেদিনীপুরে প্রশাসনিক গাফিলতিতে তোলপাড়!

সেখ ওয়ারেশ আলী : ২০০২ সালের SIR তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও ২০২৫ সালের খসড়া ভোটার তালিকা থেকে নিজের নাম বাদ পড়েছে—এই অভিযোগ তুলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন জেলা যুব সভাপতি Prasenjit Chakraborty। নিয়ম মেনে ফর্ম–৬ জমা দেওয়া এবং শুনানিতে অংশ নেওয়ার পরও এখনও পর্যন্ত নাম পুনর্ভুক্ত না হওয়ায় তিনি হতাশ ও ক্ষুব্ধ।ঘটনাকে আরও জটিল করেছে এক চাঞ্চল্যকর অসঙ্গতি। অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের তরফে তাঁকে ইতিমধ্যেই “সেকেন্ড পোলিং অফিসার” হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য সরকারি চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠিতে তাঁর ভোটার আইডি নম্বর উল্লেখ থাকলেও, কোন বছরের ভোটার তালিকা থেকে পার্ট নম্বর ও সিরিয়াল নম্বর নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। ফলে প্রশাসনিক সমন্বয় ও তথ্যের নির্ভুলতা নিয়েই উঠছে বড় প্রশ্ন।চিঠি অনুযায়ী, আগামী ২৮ মার্চ মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুলে তাঁকে ভোটকর্মী প্রশিক্ষণে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২৪ মার্চ তাঁর হাতে চিঠিটি পৌঁছায়।

পেশায় তিনি মেদিনীপুরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। চিঠির সঙ্গে পাঠানো হয়েছে ফর্ম–১২, যা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয়। কিন্তু বর্তমান ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় তিনি কীভাবে এই ফর্ম পূরণ করবেন, তা নিয়ে চরম বিভ্রান্তিতে রয়েছেন।বিষয়টি স্পষ্ট করতে নির্বাচন দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও সন্তোষজনক উত্তর পাননি বলে অভিযোগ তাঁর। সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন তিনি—“যেখানে আমাকে ভোটার হিসেবেই তালিকাভুক্ত করা হয়নি, সেখানে আমি কীভাবে একজন ভোটকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করব?”এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক সমন্বয় নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

বিশেষ করে Special Summary Revision (SIR)-এর কার্যকারিতা নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা। ভোটার তালিকাকে নির্ভুল ও হালনাগাদ রাখাই যেখানে এই প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য, সেখানে এমন অসঙ্গতি সামনে আসায় উদ্বেগ বাড়ছে।সচেতন মহলের মতে, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সমস্যার দ্রুত সমাধান করে নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বজায় রাখা এখন প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।