কেলেঘাইয়ের জলস্তর বাড়তেই- সবংয়ে বন্যার জলে বিচ্ছিন্ন চর!
নিজস্ব সংবাদদাতা : একটানা ভারী বৃষ্টিতে সবং ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন। কেলেঘাই নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় মাসুমপুর অঞ্চলের বহু এলাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন দ্বীপে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ত্রাণ পৌঁছে দিতে গিয়ে জলবন্দি চরে এক সন্তানসম্ভবা মহিলার খোঁজ পেয়ে তাঁকে নিরাপদে চিকিৎসার আওতায় আনার উদ্যোগ নিল প্রশাসন ও পুলিশ।দুর্গতদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া, ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া এবং অস্থায়ী শিবিরে রান্না করা খাবার সরবরাহের বিষয়টি কন্ট্রোল রুম থেকেই তদারকি করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।অন্যদিকে, রাতের অন্ধকারেও ত্রাণসামগ্রী ও শুকনো খাবার নিয়ে জলবন্দি মাসুমপুরের দুর্গম এলাকায় পৌঁছন সবং থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক এবং এলাকার বিধায়ক অমল পণ্ডা।
নৌকায় করে দুর্গম চর এলাকায় পৌঁছে তাঁরা সাধারণ মানুষের হাতে শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দেন।ত্রাণ বিতরণের সময় তাঁদের নজরে আসে নদীর জলের মাঝে বিপজ্জনক অবস্থায় বসবাসকারী একটি পরিবার। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই পরিবারের গৃহবধূ সোনিয়া মাল বর্মন পূর্ণগর্ভবতী।
চলতি সপ্তাহেই তাঁর প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ। চারদিকে জল, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এবং চিকিৎসার কোনও সহজলভ্য ব্যবস্থা না থাকায় যেকোনও মুহূর্তে বড় বিপদ ঘটতে পারত।পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে কালবিলম্ব না করে ওই মহিলার চিকিৎসা ও নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেয় প্রশাসন ও পুলিশ।
দুর্যোগের মধ্যেও সন্তানসম্ভবা মহিলার পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগে প্রশাসনের মানবিক ভূমিকা সামনে এসেছে।এদিকে বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে এলাকায় পৌঁছন সেচমন্ত্রী অরূপ কুমার দাস, পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণ, আইএএস এবং এসডিও মারঘুব ইলমি।
তাঁরা জলমগ্ন এলাকাগুলির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন এবং দুর্গত মানুষের কাছে ত্রাণ ও জরুরি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন।প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জলবন্দি এলাকাগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। দুর্গতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, খাবার ও পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া এবং জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে।