জমি দুর্নীতির তদন্ত চলাকালেই নতুন অভিযোগ, সুজয় হাজরাকে ফের হেফাজতে নিল পুলিশ!
সেখ ওয়ারেশ আলী : শালবনির বহুল আলোচিত জমি কেলেঙ্কারি মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন তৃণমূল নেতা সুজয় হাজরাকে আট দিনের পুলিশ হেফাজতের পর ১৫ই জুন সোমবার ফের মেদিনীপুর আদালতে পেশ করা হয়। আদালতে আনার সময় তাঁর মুখ সাদা রুমালে ঢাকা ছিল। তদন্তকারী আধিকারিকরা জমি লেনদেন সংক্রান্ত অর্থ কোথায় গিয়েছে এবং কারা সেই অর্থের সুবিধাভোগী—তা জানতে একাধিকবার প্রশ্ন করলেও সুজয় হাজরা এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
এদিকে, জমি কেলেঙ্কারি মামলার পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে তোলাবাজির অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মেদিনীপুর শহরের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমের মালিকের কাছ থেকে ব্যবসা নির্বিঘ্নে পরিচালনার আশ্বাস দিয়ে প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা আদায় করা হয়েছিল। অভিযোগকারী একজন চিকিৎসক।
অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় মেদিনীপুরের কয়েকজন চিকিৎসককেও যুক্ত করা হয়েছিল। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে অর্থ না দেওয়ায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে সংশ্লিষ্ট নার্সিংহোমের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার বকেয়া বিল আটকে দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।এই অভিযোগের ভিত্তিতে চলতি মাসে মেদিনীপুর কোতোয়ালি থানায় সুজয় হাজরার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক অজামিনযোগ্য ধারায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার আদালতে পেশ করার পর কোতোয়ালি থানার পুলিশ নতুন মামলার তদন্তের স্বার্থে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায়। পুলিশের পক্ষ থেকে ১৪ দিনের হেফাজত চাওয়া হলেও আদালত ৯ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়।আগামী ২৪ জুন তাঁকে পুনরায় আদালতে পেশ করা হবে। তদন্তকারীদের মতে, জমি কেলেঙ্কারি এবং নতুন তোলাবাজির অভিযোগের সূত্র ধরে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।তবে উল্লেখ্য, অভিযোগগুলির তদন্ত এখনও চলমান এবং আদালতে তা প্রমাণিত হয়নি। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আইনগতভাবে প্রমাণিত বলে গণ্য করা যায় না।