বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন কোর্সের সূচনা, শিক্ষার মানোন্নয়নে বড় বার্তা সুকান্ত মজুমদারের!
সেখ ওয়ারেশ আলী : বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৯শে মে ,শুক্রবার অনুষ্ঠিত হলো বি.এন. শাসমল হলের নবীকরণ উদ্বোধন এবং “পাবলিক হেলথ ম্যানেজমেন্ট” বিষয়ক অ্যাডভান্সড সার্টিফিকেট কোর্সের আনুষ্ঠানিক সূচনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী ড. সুকান্ত মজুমদার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. দীপক কুমার কর, জয়েন্ট ডিরেক্টর, ডিজির (ইস্ট) সূর্য ভট্টাচার্য,রেজিস্ট্রার ড. জে. কে. নন্দী,ড. শঙ্কর কুমার গুছাইত, রমা প্রসাদ গিরি,অজিত কুমার জানা,ভদ্র হেমব্রম,প্রদীপ লোধা ,বিশিষ্ট অধ্যাপক, শিক্ষাবিদ এবং অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ড. মজুমদার রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, শুধুমাত্র একটি জেলা নয়, গোটা রাজ্যের বহু স্কুলের পরিকাঠামো দীর্ঘদিন ধরেই অবহেলিত। পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, স্কুলগুলির উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ করা হয়নি।
এমনকি প্রাথমিক শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার ক্ষেত্রেও আর্থিক সঙ্কট দেখা দিয়েছিল। পাশাপাশি কেন্দ্রের বিভিন্ন শিক্ষা প্রকল্পের সুযোগও যথাযথভাবে গ্রহণ করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের পিএমসি (PMC) স্কুল প্রকল্পে সম্মতি দিয়েছেন। এর ফলে প্রতিটি ব্লক থেকে অন্তত দুটি করে স্কুল নির্বাচন করে তাদের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
শিক্ষাক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠনের পর শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। নিয়মিত ও স্বচ্ছ এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে বিদ্যালয় ও কলেজে শিক্ষক নিয়োগের গতি বাড়বে এবং শিক্ষার সামগ্রিক পরিবেশ আরও উন্নত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
গত ১৫ বছরে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে মেধা, একাডেমিক ফলাফল এবং লিখিত পরীক্ষার ভিত্তিতেই নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।
ড. মজুমদার আরও বলেন, বর্তমান সময়ের চাহিদা অনুযায়ী কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে দক্ষতাভিত্তিক (Skill-Based) এবং কর্মমুখী পাঠক্রম চালু করা অত্যন্ত জরুরি। নতুন জাতীয় শিক্ষা নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষার উপর গুরুত্ব আরোপ করার আহ্বান জানান তিনি।