দুর্যোগে ভরসার বিকল্প যোগাযোগ, বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে হ্যাম রেডিও নিয়ে বিশেষ বক্তৃতায় উৎসাহ!
নিজস্ব সংবাদদাতা : র্যোগকালীন সময়ে বিকল্প ও নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্বকে সামনে রেখে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপকূলীয় পর্যবেক্ষণ ও প্রচার কেন্দ্র (COOC)-এর উদ্যোগে আয়োজিত হল এক বিশেষ বক্তৃতা অনুষ্ঠান। সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬ সকাল ১১:৩০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বি. সি. মুখার্জি হলে অনুষ্ঠিত এই আলোচনার মূল প্রতিপাদ্য ছিল— “দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় হ্যাম রেডিওর ভূমিকা”।বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক দীপক কুমার কর-এর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় তাঁর উদ্বোধনী ভাষণের মাধ্যমে। বক্তব্যে তিনি দুর্যোগের সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত ভাষণ দেন COOC-এর সমন্বয়ক ড. যতীশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য তুলে ধরেন।বিশেষ বক্তৃতা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. জয়ন্ত কিশোর নন্দী, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক পরেশ চন্দ্র জানা, পশ্চিমবঙ্গ রেডিও ক্লাবের সম্পাদক এবং ‘ইন্ডিয়ান একাডেমি অফ কমিউনিকেশন অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট’-এর চেয়ারম্যান অম্বরীশ নাগ বিশ্বাস ও তাঁর দল। পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষিকা, গবেষক এবং বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতিতে হলঘর ছিল পরিপূর্ণ।
আলোচনায় অধ্যাপক পরেশ চন্দ্র জানা দুর্যোগের সময় নিরবচ্ছিন্ন ও বিশ্বাসযোগ্য যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্ব বিশদে ব্যাখ্যা করেন। এরপর মূল বক্তা অম্বরীশ নাগ বিশ্বাস তাঁর বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে দেখান, কীভাবে বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিপর্যস্ত হলেও হ্যাম রেডিও জরুরি বার্তা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তাঁর দলের সদস্যরাও বিভিন্ন বাস্তব উদাহরণ ও প্রযুক্তিগত দিক তুলে ধরে উপস্থিতদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেন।অনুষ্ঠানের শেষে রেজিস্ট্রার ড. জয়ন্ত কিশোর নন্দী ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং সফলভাবে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।আয়োজকদের আশা, এই বিশেষ বক্তৃতা ছাত্রছাত্রী, গবেষক এবং আগ্রহী অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দুর্যোগের সময় হ্যাম রেডিওকে একটি কার্যকর বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা আরও বাড়াবে। বর্তমান সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে এমন উদ্যোগকে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলেই মনে করছে শিক্ষামহল।