বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩তম সমাবর্তন: ৮৯ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর হাতে ডিগ্রি, সম্মানিত ৩ বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব!
তুহিন কান্তি দাস : পশ্চিম মেদিনীপুরের বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বুধবার, ৩ জুন, গৌরবময় ও উৎসবমুখর আবহে অনুষ্ঠিত হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩তম সমাবর্তন উৎসব। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবেকানন্দ সভাগৃহে আয়োজিত এই মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের কৃতি ছাত্রছাত্রী এবং গবেষকদের ডিগ্রি, পদক ও বিভিন্ন সম্মাননা প্রদান করা হয়।সকাল ১১টা নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পৌঁছন রাজ্যপাল আর. এন. রবি। তাঁকে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর জাতীয় সঙ্গীত ও ‘বন্দে মাতরম’-এর মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তথা পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর. এন. রবি। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিস্টার নিবেদিতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং এনআইটি দুর্গাপুরের প্রাক্তন অধিকর্তা অধ্যাপক (ড.) অনুপম বসু। তিনি সমাবর্তন ভাষণে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও সমাজকল্যাণে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান।
এদিন বিজ্ঞান, মহাকাশ গবেষণা ও সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে সাম্মানিক ডিগ্রি (Honoris Causa) প্রদান করা হয়। প্রাক্তন ইসরো চেয়ারম্যান ড. এস. সোমনাথ এবং এম.পি. বিড়লা প্ল্যানেটারিয়ামের প্রাক্তন অধিকর্তা ড. দেবীপ্রসাদ দুয়ারীকে সাম্মানিক ডি.এসসি. (D.Sc.) এবং এডিনবার্গ নেপিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা এমেরিটা অধ্যাপক বাসবী ফ্রেজারকে সাম্মানিক ডি.লিট. (D.Litt.) উপাধিতে সম্মানিত করা হয়।
গবেষণাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য অর্থনীতির অধ্যাপক (ড.) রমেশ চন্দ্র দাস ‘বিবেকানন্দ স্মৃতি গবেষণা পদক’ এবং মাইক্রোবায়োলজির অধ্যাপক (ড.) কেশব চন্দ্র মণ্ডল ‘বিদ্যাসাগর স্মৃতি গবেষণা পদক’ লাভ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এদিন মোট ৮৯,১৫৮ জন শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭০,০০৯ জন স্নাতক, ১৮,৭৭৯ জন স্নাতকোত্তর এবং ৩৬৪ জন পিএইচডি গবেষক রয়েছেন। পাশাপাশি কৃতী ছাত্রছাত্রীদের হাতে বিভিন্ন স্বর্ণপদক ও এন্ডাউমেন্ট পুরস্কারও তুলে দেওয়া হয়।
বিশ্বকবির “বিশ্ববিদ্যা তীর্থপ্রাঙ্গণ করো মহোজ্জ্বল” সংগীতের আবহে শুরু হওয়া এই সমাবর্তন অনুষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে স্থান করে নিল। উপাচার্য অধ্যাপক দীপক কুমার করের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আধিকারিক, কর্মী ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।