শালবনীর মাঠ থেকে পাঞ্জাবের ময়দান—পাঁচ বছরের চুক্তিতে নতুন স্বপ্নের পথে!

অভিজিৎ সাহা : পশ্চিম মেদিনীপুরের জঙ্গলমহলের শালবনী থেকে ফুটবলের বড় মঞ্চে পা রাখার সুযোগ পেল দুই প্রতিভাবান কিশোর। শালবনী ফুটবল একাডেমির রোহান মাহাতো ও সমর বাসফোর পাঞ্জাবের স্বনামধন্য মিনার্ভা ফুটবল একাডেমির অনূর্ধ্ব-১৪ বিভাগে জায়গা করে নিয়েছেন। শনিবার দু’জনের সঙ্গেই মিনার্ভা ফুটবল একাডেমির চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

রোহান মাহাতো

শালবনী অঞ্চলের কোলশিবাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা রোহান মাহাতো এবং মেদিনীপুর শহরের সমর বাসফোরের এই সাফল্যে স্বাভাবিকভাবেই আনন্দের আবহ শালবনী ফুটবল একাডেমিতে। প্রত্যন্ত এলাকার প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বড় ফুটবল মঞ্চে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই সাফল্যকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন একাডেমির সঙ্গে যুক্তরা।

২০১১ সালে পথচলা, ২০২২-এ নতুন পরিচয় : শালবনী জাগরণ ফুটবল একাডেমির পথচলা শুরু হয় ২০১১ সালে, শালবনী নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু স্টেডিয়ামে। প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময় ধরে মূলত মহিলা ফুটবলের প্রসারে কাজ করেছে এই প্রতিষ্ঠান। পরবর্তীতে বয়সভিত্তিক ফুটবল প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও চালু করা হয়।এরপর ২০২২ সালে একাডেমির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘শালবনী ফুটবল একাডেমি’। বর্তমানে বিভিন্ন বয়সের প্রতিভাবান ছেলে ও মেয়েদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এখানে।

সমর বাসফোর

তিন বছরের প্রশিক্ষণের পর বড় সুযোগ

রোহান মাহাতো এবং সমর বাসফোর দু’জনেই গত তিন বছর ধরে শালবনী ফুটবল একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। নিয়মিত অনুশীলন ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতা বাড়িয়ে এবার তাঁরা জায়গা করে নিলেন দেশের অন্যতম পরিচিত ফুটবল অ্যাকাডেমি মিনার্ভায়।অনূর্ধ্ব-১৪ বিভাগে এই সুযোগ দুই তরুণ ফুটবলারের ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন ক্রীড়ামহল। পাশাপাশি শালবনী ফুটবল একাডেমির কাছেও এটি একটি বড় স্বীকৃতি।শালবনীর মাটি থেকে উঠে আসা রোহান ও মেদিনীপুর শহরের সমরের এই সাফল্য আগামী দিনে এলাকার আরও বহু প্রতিভাবান খুদে ফুটবলারকে বড় স্বপ্ন দেখতে উৎসাহিত করবে বলেই মনে করছেন ফুটবলপ্রেমীরা।