বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সবংয়ে মুখ্যমন্ত্রী, ক্ষতিগ্রস্ত ৩২০০ বাড়িকে ৩০ হাজার টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা!

সেখ ওয়ারেশ আলী : টানা বৃষ্টি ও নদীগুলির জলস্তর বৃদ্ধির জেরে পশ্চিম মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকায় তৈরি হয়েছে বন্যা পরিস্থিতি। ইতিমধ্যেই জলমগ্ন সবং ও নারায়ণগড়ের একাধিক এলাকা। কোথাও বাড়িতে জল ঢুকেছে, কোথাও আবার ব্যাহত হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। এই পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষের অবস্থা এবং প্রশাসনের তৎপরতা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে বৃহস্পতিবার সবংয়ে আসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।দুপুরে হেলিকপ্টারে সবংয়ে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী।

অবতরণের আগে আকাশপথেই নারায়ণগড় ও সবংয়ের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি। উপর থেকে জলমগ্ন এলাকা, নদীর জলস্তর এবং বন্যা পরিস্থিতির সামগ্রিক চিত্র খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী।

এরপর সবংয়ে হেলিকপ্টার অবতরণের পর সরাসরি বিডিও অফিসে যান তিনি। সেখানে জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে বন্যা পরিস্থিতি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী।

উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা, পুলিশ সুপার আইপিএস পাপিয়া সুলতানা, বিধায়ক ও মন্ত্রী রাজেশ মাহাতা,ডেবরার বিধায়ক শুভাশিস ওম, পিংলার বিধায়ক স্বাগতা মান্না, সবংয়ের বিধায়ক অমল পণ্ডা, নারায়ণগড়ের বিধায়ক রমাপ্রসাদ গিরি, কেশিয়াড়ির বিধায়ক ভদ্র হেমব্রম, বিধায়ক তপন কুমার দত্ত এবং মেদিনীপুরের বিধায়ক শংকর গুছাইত-সহ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা।

বৈঠকে বন্যার বর্তমান পরিস্থিতি, নদীর জলস্তরের গতিবিধি, উদ্ধারকাজ, ত্রাণ বণ্টন এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। জলবন্দি মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ত্রাণশিবিরে থাকার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন তিনি। দুর্গতদের কাছে যাতে কোনওভাবেই ত্রাণ ও জরুরি পরিষেবা পৌঁছতে দেরি না হয়, সে বিষয়েও প্রশাসনকে সতর্ক করেন মুখ্যমন্ত্রী। খাবার, পানীয় জল, ওষুধ-সহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী দ্রুত বন্যাকবলিত এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি পরিস্থিতির উপর ২৪ ঘণ্টা নজরদারি রাখার এবং কোথাও অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়।

বন্যার জেরে স্বাস্থ্য পরিষেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সেদিকেও বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জলবাহিত রোগের আশঙ্কা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা এবং দুর্গত এলাকায় চিকিৎসা পরিষেবা সচল রাখার বিষয়েও প্রশাসনকে সতর্ক করা হয়।বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে প্রশাসনকে সবসময় থাকতে হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, যাঁদের ত্রাণশিবিরে রাখা হয়েছিল, তাঁদের পাঁচ দিনের খাদ্যসামগ্রী দিয়ে বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। বন্যায় মৃত দু’জনের পরিবারকে ৯ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।সবং ব্লকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৩২০০টি বাড়ি

ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি বাড়ির জন্য ৩০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর সবং সফর ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। তাঁকে এক ঝলক দেখতে রাস্তার দু’ধারে বহু মানুষ ভিড় করেন।