পিতৃপক্ষের অবসান, দেবীপক্ষের সূচনা! মহালয়ায় তর্পণে কংসাবতীর গান্ধী ঘাটে পুণ্যার্থীদের ভিড়!

সেখ ওয়ারেশ আলী : পিতৃপক্ষের অবসান, সূচনা দেবীপক্ষের। মহালয়ার পুণ্যলগ্নে দেবীর আগমনী বার্তায় শারদোৎসবের আবহে মেতে উঠেছে বাঙালি। আকাশবাণীতে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কালজয়ী কণ্ঠে চণ্ডীপাঠের সুরে বাংলার ঘরে ঘরে বেজে উঠেছে দুর্গাপুজোর আগমনী। আর এই বিশেষ দিনে পূর্বপুরুষদের স্মরণ করে তাঁদের আত্মার শান্তি কামনায় মেদিনীপুর শহরের কংসাবতী নদীর গান্ধী ঘাটে ভিড় জমালেন অসংখ্য মানুষ।

দীর্ঘদিনের ধর্মীয় রীতি ও ঐতিহ্য মেনে মহালয়ার সকালে শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বহু মানুষ উপস্থিত হন কংসাবতীর ঘাটে। পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে জল নিবেদন ও তর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান তাঁরা। পিতৃপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনার পাশাপাশি পরিবারের সুখ, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করতেও দেখা যায় অনেককে।মহালয়া বাঙালির কাছে শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় তিথি নয়, বরং শারদোৎসবের সূচনার এক আবেগঘন মুহূর্ত।

একদিকে পিতৃপুরুষদের স্মরণে তর্পণ, অন্যদিকে দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমনের প্রতীক্ষা—এই দুইয়ের মেলবন্ধনে এদিন কংসাবতীর গান্ধী ঘাটে তৈরি হয় এক বিশেষ ধর্মীয় ও উৎসবমুখর পরিবেশ।পুণ্যার্থীদের ভিড়ের কথা মাথায় রেখে ঘাটে আগাম প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ। যাতে তর্পণ ও পুণ্যস্নানের সময় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হয়।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোতায়েন রাখা হয় ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের দলও। প্রশাসনিক তৎপরতা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থার মধ্যেই নির্বিঘ্নে চলে তর্পণ ও পুণ্যস্নান।সব মিলিয়ে মহালয়ার সকালে মেদিনীপুরের কংসাবতী নদীর গান্ধী ঘাটে ধরা পড়ল বাঙালির চিরাচরিত ধর্মীয় বিশ্বাস, পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং শারদোৎসবকে স্বাগত জানানোর আবেগ। চণ্ডীপাঠের সুর আর তর্পণের পবিত্রতায় দেবীপক্ষের সূচনায় উৎসবের অপেক্ষায় নতুন করে বাঁধা পড়ল বাঙালির মন।