মেদিনীপুর-খড়গপুরে শুরু হচ্ছে পাইলট প্রকল্প, বর্জ্য থেকেই তৈরি হবে সার ও নানা উপযোগী পণ্য

নিজস্ব সংবাদদাতা : গ্রাম থেকে শহর—বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দীর্ঘদিনের সমস্যা মেটাতে এবার বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। Indian Institute of Technology Kharagpur-এর প্রযুক্তিগত সহায়তায় মেদিনীপুর ও খড়গপুরে শুরু হতে চলেছে দুটি পাইলট প্রকল্প। প্রকল্প সফল হলে ভবিষ্যতে গোটা রাজ্যেই আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এই মডেল চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিধানসভায় পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানান, শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বর্তমানে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্দিষ্ট ডাম্পিং গ্রাউন্ডের অভাবে বহু এলাকায় যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এর ফলে বাড়ছে পরিবেশ দূষণ এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি। নতুন পরিকল্পনায় জৈব ও অজৈব বর্জ্য আলাদা করে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াকরণের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রীর দাবি, আগের সরকারের আমলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বহু গ্রাম পঞ্চায়েতকে অর্থ বরাদ্দ করা হলেও অনেক ক্ষেত্রেই সেই অর্থের যথাযথ ব্যবহার হয়নি। কোথাও অবকাঠামো অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে, আবার কোথাও বর্জ্য সংগ্রহের গাড়ি থাকলেও চালকের অভাবে পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। পুরসভাগুলির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ কিছু সংস্থার পরিষেবা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে নতুন মডেলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চিত্র বদলানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এমন একটি সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলছে, যারা সরকারের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার পরিবর্তে বর্জ্য সংগ্রহ করে তা প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে জৈব সার ও অন্যান্য উপযোগী পণ্য তৈরি করবে। অর্থাৎ, আবর্জনাকে বোঝা হিসেবে না দেখে সম্পদে পরিণত করাই হবে এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতে বর্জ্য সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত সাধারণ মানুষ বা প্রতিষ্ঠানও আর্থিক সুবিধা পেতে পারেন বলে ইঙ্গিত মিলেছে।আইআইটি খড়গপুরের ডিরেক্টর সুমন চক্রবর্তী জানান, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও গ্রামোন্নয়ন নিয়ে অধ্যাপক ও গবেষকদের একটি বিশেষজ্ঞ দল ইতিমধ্যেই প্রকল্পের রূপরেখা তৈরি করেছে। শীঘ্রই সেই প্রস্তাব রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হবে। অনুমোদন মিললে রাজ্য সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করা হবে।অন্যদিকে, মেদিনীপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খান জানান, শহরের ধর্মা ডাম্পিং গ্রাউন্ডে ইতিমধ্যেই দুটি সংস্থার সহযোগিতায় আধুনিক বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট তৈরির কাজ অনেকটাই এগিয়েছে। এর সঙ্গে আইআইটি খড়গপুরের প্রযুক্তিগত সহায়তা যুক্ত হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক, পরিবেশবান্ধব এবং কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মেদিনীপুর ও খড়গপুরের এই দুটি পাইলট প্রকল্প সফল হলে ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য জেলা ও পুরসভাতেও একই মডেল চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে একদিকে যেমন কমবে যত্রতত্র আবর্জনা ফেলার প্রবণতা ও পরিবেশ দূষণ, তেমনই বর্জ্য থেকেই তৈরি হতে পারে সার, পণ্য এবং নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা।