ল্যাংড়া, আলফনসোয় ‘বিষ’! জাপানের পর নেপালেও নিষিদ্ধ ভারতীয় আম, উদ্বেগে বাংলার চাষিরা

অভিজিৎ সাহা: ভারতীয় আম রপ্তানিতে বড় ধাক্কা। জাপানের পর এবার নেপালও ভারত থেকে আম আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। অভিযোগ, আমের একাধিক চালানে অনুমোদিত সীমার চেয়ে বেশি মাত্রায় রাসায়নিক কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে। খাদ্য নিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল সরকার। নেপালের কৃষি ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এপ্রিল ও মে মাসে সীমান্তবর্তী কোয়ারেন্টাইন চেকপয়েন্টে পরীক্ষার সময় ভারতীয় আমের কয়েকটি চালানে অতিরিক্ত কীটনাশকের উপস্থিতি ধরা পড়ে। এরপরই দেশটির সরকার ভারতীয় আম আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং সীমান্তে নজরদারি আরও কঠোর করার নির্দেশ দেয়। উল্লেখ্য, সম্প্রতি জাপানও একই কারণে আলফনসো, কেশর, ল্যাংড়া এবং বঙ্গনপল্লি-সহ একাধিক জনপ্রিয় ভারতীয় আমের আমদানি বন্ধ করেছে। ফলে পরপর দুই দেশের বাজার হারানোর আশঙ্কায় উদ্বেগে পড়েছেন ভারতের আমচাষি ও রপ্তানিকারকরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে পশ্চিমবঙ্গের মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদিয়ার কৃষ্ণনগর-সহ দেশের বিভিন্ন আম উৎপাদনকারী অঞ্চলে। কারণ বিদেশে ভারতীয় আমের একটি বড় বাজার রয়েছে। নেপালে স্থানীয়ভাবে খুব কম পরিমাণে আম উৎপাদন হওয়ায় দেশটি দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের উপর নির্ভরশীল। প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৩,৩০০ মেট্রিক টন ভারতীয় আম নেপালে রপ্তানি হয়, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৪০ কোটি টাকা। দশেরি, কেশর, ল্যাংড়া-সহ ভারতের বিভিন্ন প্রজাতির আম নেপালের বাজারে বিশেষ জনপ্রিয়। তবে নেপাল সরকারের স্পষ্ট বার্তা, দেশের নাগরিকদের স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না। ফলে ভারতীয় আমের উপর নিষেধাজ্ঞা কতদিন বহাল থাকবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।