বিধবার সঙ্গে যুবককে দেখে ‘নীতিপুলিশি’! চন্দ্রকোনায় খুঁটিতে বেঁধে চুন মাখানোর অভিযোগ
নিজস্ব সংবাদদাতা :স্বামী মারা যাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই এক যুবতীর সঙ্গে অন্য এক যুবককে দেখে ‘নীতিপুলিশি’র অভিযোগ উঠল পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা এলাকায়। অভিযোগ, ওই যুবক-যুবতীকে রাস্তার ধারে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মুখে চুন মাখিয়ে হেনস্থা করেন স্থানীয়দের একাংশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দু’জনকে উদ্ধার করে চন্দ্রকোনা থানার পুলিশ।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চন্দ্রকোনা পুরসভার গোঁসাইবাজার-জওহরপুর এলাকার বাসিন্দা ওই যুবতীর স্বামীর মৃত্যু হয় প্রায় তিন মাস আগে। পরিবারের দাবি, বাড়িতে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছিলেন তিনি। ঘটনার পর অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।এর মধ্যেই ওই যুবতীর সঙ্গে সন্দেশখালির এক যুবকের পরিচয় হয় সমাজমাধ্যমে। বুধবার ওই যুবক তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এলাকায় আসেন। অভিযোগ, যুবতীই তাঁকে শ্বশুরবাড়িতে আসতে বলেছিলেন। দু’জনকে একসঙ্গে দেখতে পেয়েই স্থানীয়দের একাংশ তাঁদের ঘিরে ফেলেন।এরপর শুরু হয় হেনস্থা। স্থানীয়দের একাংশ ওই যুবকের বিরুদ্ধে ‘পরকীয়া’র অভিযোগ তোলেন। যুবতীকেও নানা কটূক্তি করা হয় বলে অভিযোগ। পরে দু’জনকে রাস্তার ধারে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে তাঁদের মুখে চুন মাখানো হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাকে ঘিরে সেখানে ভিড় জমে যায়। খবর যায় চন্দ্রকোনা থানায়।পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দু’জনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। জেলা পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন, গন্ডগোলের খবর পেয়েই পুলিশ গিয়ে যুবক-যুবতীকে উদ্ধার করে। তবে এখনও পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দা, মহিলার পরিবারের সদস্য কিংবা ওই যুবক-যুবতীর কেউই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। ফলে ঘটনায় কোনও গ্রেফতার বা আটক হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদের পর দু’জনকেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে আপত্তি থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কাউকে প্রকাশ্যে অপমান বা হেনস্থা করার ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। চন্দ্রকোনার এই ঘটনা ঘিরে স্থানীয় মহলেও শুরু হয়েছে আলোচনা।