হাওড়ার চেঙ্গাইলে বন্ধ ঐতিহ্যবাহী প্রেমচাঁদ জুট মিল, কর্মহীন প্রায় ৪ হাজার শ্রমিক—চরম অনিশ্চয়তায় শ্রমিক পরিবার

নিজস্ব সংবাদদাতা : হাওড়া জেলার উলুবেড়িয়ার চেঙ্গাইলে আবারও বন্ধ হয়ে গেল একটি গুরুত্বপূর্ণ জুট মিল। মঙ্গলবার সকালে প্রেমচাঁদ জুট মিলে এসে শ্রমিকরা দেখেন মূল গেটে ঝুলছে বন্ধের নোটিস। মুহূর্তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা। মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এক ধাক্কায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন প্রায় চার হাজার শ্রমিক। এর প্রভাব পড়ছে শুধু শ্রমিক পরিবারেই নয়, গোটা চেঙ্গাইল এলাকার অর্থনীতিতেই। মিল কর্তৃপক্ষের দাবি, আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মিল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, বাজারে পাটের তীব্র সংকট এবং নগদ টাকায় পাট কেনার বাধ্যবাধকতার ফলে মিল চালানো কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি উন্নত মানের পাট না পাওয়ায় উৎপাদনের গুণগত মান বজায় রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছে। মিল কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, বর্তমানে যে ক’টি তাঁত চালু রয়েছে সেগুলির উৎপাদন ক্ষমতা অত্যন্ত কম এবং পুরোপুরি অলাভজনক। এর ফলে প্রতিদিন বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে মিলকে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও মিল চালানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে শ্রমিক ও তাঁদের ইউনিয়ন প্রতিনিধিদের কাছ থেকে সহযোগিতা না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই সাময়িকভাবে মিল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।

অন্যদিকে, মিলের শ্রমিক ইউনিয়ন টিইউসিসির সম্পাদক হাবিবুর রহমান কর্তৃপক্ষের দাবিকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন। তাঁর অভিযোগ, পাটের সংকট দেখিয়ে আসলে শ্রমিকদের উপর চাপ সৃষ্টি করতেই পরিকল্পিতভাবে মিল বন্ধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “মিল বন্ধ হওয়ায় শুধু চার হাজার শ্রমিক পরিবারই নয়, এলাকার ছোট ব্যবসায়ী, দোকানদার ও পরিবহণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষও চরম সমস্যায় পড়েছেন।”শ্রমিক ইউনিয়নের তরফে অবিলম্বে মিল পুনরায় চালুর দাবি জানানো হয়েছে। স্থানীয় মানুষের আশঙ্কা, এইভাবে একের পর এক জুট মিল বন্ধ হয়ে গেলে রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী পাট শিল্প আরও গভীর সংকটে পড়বে। এখন দেখার, প্রশাসন ও রাজ্য সরকার এই পরিস্থিতিতে কী পদক্ষেপ নেয়।