স্মার্ট মিটারের প্রতিবাদে প্রতাপপুর বিদ্যুৎ অফিসে বিক্ষোভ, প্রতীকী মিটার পুড়িয়ে ৮ দফা দাবিপত্র জমা গ্রাহকদের

নিজস্ব সংবাদদাতা : জনস্বার্থবিরোধী বলে দাবি করা স্মার্ট মিটার প্রকল্প বন্ধ, বিদ্যুতের মাশুল বৃদ্ধির আশঙ্কা রোধ এবং প্রতাপপুর বিদ্যুৎ সরবরাহ এলাকায় দীর্ঘদিনের লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে শুক্রবার প্রতাপপুর কাস্টমার কেয়ার সেন্টার (বিদ্যুৎ অফিস) চত্বরে বিক্ষোভে সামিল হলেন বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা। কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতীকী স্মার্ট মিটার পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানানো হয় এবং স্টেশন ম্যানেজারের হাতে ৮ দফা দাবিসংবলিত স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়। অল বেঙ্গল ইলেকট্রিসিটি কনজিউমার্স অ্যাসোসিয়েশন (অ্যাবেকা)-র পাঁশকুড়া জোনাল কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন সংগঠনের পূর্ব মেদিনীপুর জেলা অফিস সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়ক, নিলয় খালুয়া, স্বপন বেরা, বিদ্যুৎ সামন্ত-সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সংগঠনের পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সম্পাদক শংকর মালাকার এবং জেলা অফিস সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়ক অভিযোগ করেন, গত কয়েক মাস ধরে সামান্য ঝড়-বৃষ্টি কিংবা আকাশ মেঘলা হলেই বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকাগুলিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রাখা হচ্ছে। ফলে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, চিকিৎসা পরিষেবা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও চরম সমস্যার মুখে পড়ছেন। বিক্ষোভ শেষে সংগঠনের প্রবীণ নেতা অসিত মান্না প্রতীকী স্মার্ট মিটারে অগ্নিসংযোগ করে প্রতিবাদ কর্মসূচির সূচনা করেন। পরে বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা পাঁশকুড়া স্টেশন বাজার এলাকায় একটি বিক্ষোভ মিছিলও করেন। অন্যদিকে, বিদ্যুৎ দফতরের স্টেশন ম্যানেজার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় জানান, বর্তমানে সরকারি দফতর ছাড়া সাধারণ গৃহস্থ বা অন্যান্য গ্রাহকদের বাড়িতে স্মার্ট মিটার বসানোর কোনও নির্দেশ এখনও আসেনি। পাশাপাশি, লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজ-সহ স্থানীয় সমস্যাগুলির যৌক্তিকতা স্বীকার করে তিনি বিষয়গুলি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এনে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। বিদ্যুৎ পরিষেবার মানোন্নয়ন এবং স্মার্ট মিটার নিয়ে গ্রাহকদের উদ্বেগকে কেন্দ্র করে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি এলাকায় যথেষ্ট সাড়া ফেলেছে। আগামী দিনে দাবিগুলি পূরণ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার ইঙ্গিতও দিয়েছে অল বেঙ্গল ইলেকট্রিসিটি কনজিউমার্স অ্যাসোসিয়েশন।