পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক, পুলিশ সুপার-সহ বিশাল বাহিনীর সরেজমিন পরিদর্শন;বেআইনি বাসিন্দাদের ১০ দিনের নোটিস!

নিজস্ব সংবাদদাতা :  পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ার অদূরে হুগলি নদীর মোহনায় অবস্থিত নয়াচর দ্বীপকে ঘিরে বড় পদক্ষেপ নিতে! শুরু করেছে নবগঠিত বিজেপি সরকার। প্রায় ৬৪ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই দ্বীপে দীর্ঘদিন ধরে কয়েক হাজার মানুষ বসবাস ও মাছ চাষ করে আসছেন। অভিযোগ, প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার মানুষ সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন এবং বিস্তীর্ণ এলাকায় মাছ চাষের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।নয়াচর নিয়ে অতীতে একাধিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তেমন কোনও উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি বলে অভিযোগ। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরই নয়াচরে একটি আধুনিক মৎস্যহাব গড়ে তোলার ঘোষণা করেছে। সেই লক্ষ্যেই এবার দ্বীপটিকে অবৈধ দখলমুক্ত করার উদ্যোগ শুরু হয়েছে।শুক্রবার পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার, জেলা পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা, হলদিয়ার মহকুমাশাসক এবং বিশাল পুলিশবাহিনী নিয়ে নয়াচরে যান। সেখানে বসবাসকারীদের পরিচয়পত্র পরীক্ষা করা হয় এবং যারা সংশ্লিষ্ট এলাকার বৈধ বাসিন্দা নন, তাঁদের নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১০ দিনের মধ্যে বেআইনি বসবাসকারীদের এলাকা খালি করার নোটিস দেওয়া হয়েছে।জেলা প্রশাসনের দাবি, নয়াচরে অবৈধভাবে বসবাসের সুযোগ নিয়ে বহিরাগত দুষ্কৃতী ও বিভিন্ন এলাকার মানুষ সেখানে প্রবেশ করছে। এর ফলে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই এলাকাকে নিয়ন্ত্রণে আনার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।প্রশাসনের আরও বক্তব্য, নয়াচরে অবৈধ দখলদারির মাধ্যমে মাছ চাষ হলেও তার কোনও রাজস্ব সরকারের কোষাগারে জমা পড়ছে না। ভবিষ্যতে নয়াচরের সমস্ত জমি মৎস্য দপ্তরের অধীনে এনে স্বচ্ছ টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মাছ চাষের জন্য বরাদ্দ করা হবে।অন্যদিকে, নয়াচরের মৎস্যজীবীদের দাবি, তাঁরা সরকারকে নির্ধারিত রাজস্ব প্রদান করেই বৈধভাবে মাছ চাষ করতে চান। এ বিষয়ে অতীতেও সরকারের কাছে আবেদন জানানো হলেও কোনও স্থায়ী সমাধান মেলেনি। তাঁদের দাবি, সরকার যেন আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকেই নয়াচরে বসবাস ও মাছ চাষের সুযোগ নিশ্চিত করে।