হলদিয়ায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি, ৩২ হাজার বাড়িতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন—জরুরি বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী!
প্রশান্ত দাস : টানা ভারী বৃষ্টিতে পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া-সহ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন। ভয়াবহ বন্যা ও জলবন্দি পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট হলদিয়া ভবনে উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম-সহ দক্ষিণবঙ্গের জলমগ্ন এলাকার পরিস্থিতি, ত্রাণ, বিদ্যুৎ পরিষেবা, নিকাশি ব্যবস্থা এবং ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী জানান, দুর্গত মানুষের পাশে রাজ্য সরকার রয়েছে। এই মুহূর্তে প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য জলবন্দি মানুষের কাছে দ্রুত প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর কৃষি ও ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতির প্রশাসনিক সমীক্ষা করে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।হলদিয়ার নিকাশি ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের উপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হলদিয়ার বিধায়ক এবং মহকুমা শাসককে এই কাজে মুখ্য ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিল্প সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে হলদিয়া ডেভেলপমেন্ট অথরিটি, হলদিয়া পুরসভা, হলদিয়া ডক কমপ্লেক্স এবং দক্ষিণ-পূর্ব রেলওয়ে মিলে উন্নত নিকাশি ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেবে বলে বৈঠকে জানানো হয়।মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হলদিয়া পুরসভার ছ’টি ওয়ার্ড সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পাশাপাশি সুতাহাটা ব্লকের ৬২টি মৌজা, হলদিয়া ব্লকের দুটি পঞ্চায়েত এবং ভগবানপুর ও পটাশপুরের বেশ কিছু এলাকাও জলমগ্ন হয়েছে। জলবন্দি এলাকার প্রায় ৩২ হাজার বাড়িতে বিদ্যুৎ পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় ১৫ হাজার মানুষ।জমা জল দ্রুত সরানোর জন্য বর্তমানে ২২টি পাম্প কাজ করছে। বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুরে সাপের কামড়ে ২০ জন আহত হলেও চিকিৎসার পর সকলেই সুস্থ রয়েছেন বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগের ভূমিকার প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী।নিম্নচাপের প্রভাব কেটে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা শুরু হবে। কৃষি, উদ্যানপালন, মৎস্য এবং দুর্যোগ মোকাবিলা দফতরের প্রতিনিধিদের নিয়ে পাঁচটি দল গঠন করে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সমীক্ষা চালানো হবে। পানবরজ, ফুল চাষ এবং আমন ধানের ক্ষয়ক্ষতিও সমীক্ষার আওতায় থাকবে।এছাড়াও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলির জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য জেলাশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত রেখে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তাই দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।