পূর্ব মেদিনীপুরের নীলকুণ্ঠিয়া হল্টে বড় অগ্রগতি, টেন্ডার শুরুতেই খুশির হাওয়া তমলুক–ময়না–নন্দকুমারে!

নিজস্ব সংবাদদাতা : পূর্ব মেদিনীপুরের বহুদিনের স্বপ্ন এবার বাস্তবের আরও এক ধাপ কাছে। পানসকুড়া–হলদিয়া–দীঘা রেলপথে প্রস্তাবিত নীলকুণ্ঠিয়া হল্ট স্টেশন নির্মাণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় তমলুক, নন্দকুমার ও ময়না ব্লকের সাধারণ মানুষের মধ্যে খুশির আবহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই পদক্ষেপকে ঘিরে উপকূল ও সংলগ্ন গ্রামীণ অঞ্চলে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।পানসকুড়া–হলদিয়া–দীঘা দক্ষিণ-পূর্ব রেল যাত্রী কল্যাণ সমিতির সম্পাদক সরোজ ঘরা জানিয়েছেন, রেলের জেনারেল ম্যানেজার ইতিমধ্যেই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দে অনুমোদন দিয়েছেন।

বর্তমানে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ধার্য করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের পর ঠিকাদার নির্বাচন সম্পন্ন হলে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।এই রেলপথে দীর্ঘদিন ধরে তিনটি নতুন হল্ট স্টেশনের দাবি ছিল। স্থানীয়দের মতে, নীলকুণ্ঠিয়া হল্ট সেই দাবির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কারণ বহু গ্রামবাসীকে এখনো দূরের স্টেশনে গিয়ে ট্রেন ধরতে হয়।

নীলকুণ্ঠিয়ার পাশাপাশি আরও দুটি প্রস্তাবিত হল্টের দরপত্র প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে এবং কয়েকটি স্থানে প্রাথমিক কাজ শুরু হয়ে যাওয়ায় গোটা প্রকল্পের গতি আরও বেড়েছে।এই সাফল্যের জন্য রেল কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন এবং সংবাদমাধ্যমের ভূমিকারও প্রশংসা করেছেন সরোজ ঘরা। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক আন্দোলন, যাত্রী স্বার্থে লাগাতার দাবি এবং প্রশাসনিক তৎপরতার ফলেই অবশেষে এই গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, নীলকুণ্ঠিয়া হল্ট চালু হলে তমলুক ও আশপাশের বিস্তীর্ণ গ্রামীণ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী, নিত্যযাত্রী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও উপকূলীয় অঞ্চলের ছোট উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। শুধু যাতায়াত নয়, এই নতুন হল্ট ভবিষ্যতে এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, পর্যটন এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার প্রসারেও বড় ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।দশ বছরেরও বেশি সময়ের দাবির পর নীলকুণ্ঠিয়া হল্টের টেন্ডার শুরু হওয়া নিঃসন্দেহে পূর্ব মেদিনীপুরের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বড় মাইলফলক। এখন নজর, কবে মাটিতে নামবে নির্মাণকাজ এবং কবে প্রথম ট্রেন থামবে নীলকুণ্ঠিয়ার নতুন প্ল্যাটফর্মে।