ভারতীয় ডাক বিভাগের বিশেষ খামে স্থান পেল ৫১ শক্তিপীঠের প্রথম পীঠ মা বর্গভীমা!

নিজস্ব সংবাদদাতা : ভারতের অন্যতম প্রাচীন ও জাগ্রত শক্তিপীঠ মা বর্গভীমা। পীঠ নির্ণায়ক তত্ত্ব অনুযায়ী ৫১ শক্তিপীঠের মধ্যে এটিকেই প্রথম পীঠ হিসেবে গণ্য করা হয়। পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক মন্দির যুগ যুগ ধরে অসংখ্য ভক্তের আস্থার কেন্দ্রবিন্দু।পুরাণ ও লোকবিশ্বাসে সমৃদ্ধ এই শক্তিপীঠ শুধু ধর্মীয় গুরুত্বের কারণেই নয়, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। দেশের মহান বিপ্লবী শহিদ ক্ষুদিরাম বসু নিয়মিত মা বর্গভীমার মন্দিরে এসে পূজা ও আশীর্বাদ গ্রহণ করতেন বলে ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে। তাঁর দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের সঙ্গে এই পবিত্র তীর্থক্ষেত্রের স্মৃতি আজও অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে রয়েছে।ভারতীয় ডাক বিভাগের প্রকাশিত বিশেষ ডাক খামে স্থান করে নিয়েছে এই প্রাচীন শক্তিপীঠ, যা জেলার পাশাপাশি সমগ্র বাংলার জন্য গর্বের বিষয়।

শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্য, অগণিত ভক্তের অটল বিশ্বাস এবং বাংলার আধ্যাত্মিক সংস্কৃতির অন্যতম প্রতীক হিসেবে পরিচিত মা বর্গভীমা। তমলুকের এই পবিত্র তীর্থক্ষেত্র দীর্ঘদিন ধরেই দেশ-বিদেশের ভক্ত ও দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।ভারতীয় ডাক বিভাগের বিশেষ পোস্টাল খামে মা বর্গভীমার ছবি ও পরিচিতি অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে এলাকার মানুষ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলার ধর্মীয় ঐতিহ্য, ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক গৌরব দেশের নানা প্রান্তে আরও ব্যাপকভাবে পৌঁছে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু একটি ডাক খাম প্রকাশ নয়, বরং তমলুকের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্বকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। মা বর্গভীমার এই স্বীকৃতি পূর্ব মেদিনীপুর তথা সমগ্র বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ ও মর্যাদাবান করে তুলবে।