ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে ফুল ও ধানচাষে ব্যাপক ক্ষতি, কালীপুজোয় ফুলের জোগানে ঘাটতির আশঙ্কা!
নিজস্ব সংবাদদাতা: ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে টানা বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ফুল ও ধানচাষিরা। মাঠে জল জমে আমন ধানের গাছ হেলে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রজনীগন্ধা, গাঁদা, দোপাটি, অপরাজিতা ও চন্দ্রমল্লিকার মতো বিভিন্ন ফুলের চাষও। এর জেরে আসন্ন কালীপুজোয় বাজারে ফুলের জোগান কমার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।কৃষক সংগ্রাম পরিষদ এবং মেদিনীপুর জেলা ফুলচাষী ও ফুলব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়ক জানান, ব্যাপক বৃষ্টিপাতের ফলে জমিতে দাঁড়িয়ে থাকা আমন ধানের গাছগুলি অনেক জায়গায় শুয়ে পড়েছে। ধানজমিতে জল জমে যাওয়ায় চাষের ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে। কিছু জমিতে চাষিরা খানিকটা কাঁচা অবস্থাতেই ধান কেটে রেখেছিলেন।
বৃষ্টিতে সেই ধান ভিজে যাওয়ায় মাঠ থেকে তা সংগ্রহ করতেও সমস্যায় পড়তে পারেন কৃষকেরা।ফুলচাষের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। রজনীগন্ধা ও মোরগা-সহ লম্বা ডাঁটাযুক্ত ফুলের গাছের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, গাঁদা, দোপাটি, অপরাজিতা ও চন্দ্রমল্লিকার মতো নরম প্রকৃতির গাছের গোড়ায় জল জমে থাকায় সেগুলির পচে যাওয়া বা মরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গাঁদা ফুলের পাপড়িতে জল ঢুকে পচন ধরতে পারে। এর ফলে ফুলে দাগ পড়বে এবং বাজারে বিক্রির উপযোগিতা কমে যেতে পারে।নারায়ণ চন্দ্র নায়কের আশঙ্কা, সব মিলিয়ে কালীপুজোর ঠিক আগে ফুলের উৎপাদন ও জোগানে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে ফুলের বাজারেও।পাঁশকুড়ার ফুলচাষি গণেশ মাইতি এবং কোলাঘাটের ফুলচাষি অজিত মণ্ডল ও প্রশান্ত পড়িয়ারা জানান, এ বছর দুর্গাপুজো ও লক্ষ্মীপুজোর সময় ফুলের দাম তেমন ভালো ছিল না। তার উপর ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে চাষের ক্ষতি হওয়ায় তাঁরা আরও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, কালীপুজোর সময় ফুলের ফলন কম হলে একদিকে যেমন চাষিরা ক্ষতির মুখে পড়বেন, অন্যদিকে বাজারে ফুলের জোগানেও টান পড়তে পারে।উৎসবের মরসুমে ফুলের চাহিদা সাধারণত বেশি থাকে। সেই সময়ের ঠিক আগে প্রাকৃতিক দুর্যোগে চাষের ক্ষতি হওয়ায় ফুলচাষিদের সামনে নতুন করে আর্থিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।