খড়গপুর স্টেশনে যাত্রীর ব্যাগে ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা! জনশতাব্দী এক্সপ্রেস থেকে নেমেই গ্রেফতার যুবক!
সেখ ওয়ারেশ আলী : খড়গপুর রেলস্টেশনে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল। টাটা-হাওড়া জনশতাব্দী এক্সপ্রেসে করে খড়গপুরে আসা এক যাত্রীর কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার করেছে খড়গপুর জিআরপি। ধৃত যুবকের নাম রাহুল সোনি। তিনি হাওড়ার বাসিন্দা বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।পুলিশ সূত্রে খবর, টাটা-হাওড়া জনশতাব্দী এক্সপ্রেসে খড়গপুর রেলস্টেশনে পৌঁছন রাহুল সোনি। ট্রেন থেকে নামার পর তিনি স্টেশনের ৭ নম্বর প্ল্যাটফর্মে বসেছিলেন। সেই সময় স্টেশনের ৭ ও ৮ নম্বর প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত টহল দিচ্ছিলেন কর্তব্যরত জিআরপি কর্মীরা। প্ল্যাটফর্মে বসে থাকা ওই যুবকের গতিবিধি এবং তাঁর সঙ্গে থাকা সামগ্রী দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়।
এরপর তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন রেল পুলিশের আধিকারিকরা।যুবকের সঙ্গে থাকা ব্যাগ ও অন্যান্য সামগ্রীতে তল্লাশি চালাতেই উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা। প্রাথমিকভাবে উদ্ধার হওয়া অর্থের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা বলে জানা গিয়েছে। এত বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধারের পর স্টেশন চত্বরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এরপর ৭ নম্বর প্ল্যাটফর্মেই শুরু হয় উদ্ধার হওয়া টাকা গোনার প্রক্রিয়া। পরবর্তী সময়ে রাহুল সোনিকে গ্রেফতার করে খড়গপুর জিআরপি।
তবে এত বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা কোথা থেকে আনা হয়েছিল, কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এবং কী উদ্দেশ্যে এই অর্থ বহন করা হচ্ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এর পিছনে কোনও বেআইনি আর্থিক লেনদেন বা সংগঠিত চক্রের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ধৃত যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করে টাকার উৎস ও গন্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।খড়গপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ রেল জংশনে এক যাত্রীর কাছ থেকে একসঙ্গে প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। উদ্ধার হওয়া অর্থের বৈধতা এবং এই বিপুল নগদ বহনের নেপথ্যে প্রকৃত কারণ কী, তা তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে। আপাতত গোটা ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে খড়গপুর জিআরপি।