‘অবৈধ নির্মাণ’ ঘিরে তাণ্ডব, সম্ভলে ইদগাহ ও ইমামবাড়ায় চলল যোগী সরকারের বুলডোজার
নিজস্ব সংবাদদাতা: উত্তরপ্রদেশের সম্ভলে ফের ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ ঘিরে চাঞ্চল্য। সরকারি জমিতে অবৈধ নির্মাণের অভিযোগে বৃহস্পতিবার একটি ইদগাহ ও ইমামবাড়া গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন। সকাল ৮টা থেকে প্রায় দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত টানা সাড়ে ছ’ঘণ্টা ধরে চলে এই অভিযান। চারটি বুলডোজার, পাঁচ থানার পুলিশ বাহিনী এবং এক কোম্পানি বিশেষ নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে প্রশাসন।প্রশাসনের দাবি, প্রায় ৭ বিঘে সরকারি গোচারণভূমি দখল করে প্রায় ১২ বছর আগে ওই ধর্মীয় স্থাপনাগুলি তৈরি করা হয়েছিল। এই জমি দখলমুক্ত করার দাবিতে গ্রামেরই কয়েকজন বাসিন্দা আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালতের নির্দেশে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে জমির দাবিদারদের হাজির হতে বলা হলেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কেউ সামনে না আসায় শেষ পর্যন্ত আদালতের অনুমতি নিয়েই বুলডোজার অভিযান চালানো হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযানের সময় কিছু বাসিন্দা আপত্তি তুললেও বিশাল পুলিশ বাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বহু বছর ধরে ওই ইদগাহ ও ইমামবাড়ায় প্রার্থনা করে আসা স্থানীয়দের একাংশ এই পদক্ষেপে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, সরকারি জমিতে নির্মাণ যদি আপত্তির কারণ হয়, তাহলে একই নিয়মে অন্য অবৈধ স্থাপনাগুলির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।এদিকে জেলাশাসক Rajendra Pensiya স্পষ্ট জানিয়েছেন, “সরকারি জমি ইতিমধ্যেই দখলমুক্ত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ওই ইদগাহ ও ইমামবাড়ার দায়িত্বে যারা ছিলেন, তাঁদের কাছ থেকেই বুলডোজার অভিযানের খরচ আদায় করা হবে।” প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া জমির বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা।যোগী আদিত্যনাথ সরকারের ‘বুলডোজার মডেল’ উত্তরপ্রদেশে নতুন নয়, তবে ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙার ঘটনা সামনে আসতেই তা ফের রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে। একদিকে প্রশাসনের দাবি—এটি আদালতের নির্দেশে সরকারি জমি উদ্ধার অভিযান, অন্যদিকে স্থানীয়দের প্রশ্ন—আইন কি সবক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রয়োগ হচ্ছে? এই প্রশ্নই এখন নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক উসকে দিচ্ছে।