সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটে তামাকজাত দ্রব্যের উপর মূল্যবৃদ্ধি, মেদিনীপুরে কালোবাজারি তুঙ্গে, বাধ্য হয়ে বেশি দামে কিনছেন ক্রেতারা!

সেখ ওয়ারেশ আলী : ধূমপান যে স্বাস্থ্যের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকর—তা সকলেরই জানা। ক্যান্সার-সহ একাধিক প্রাণঘাতী রোগের অন্যতম প্রধান কারণ তামাকজাত দ্রব্য। তবুও ধূমপায়ীর সংখ্যা কমার কোনও লক্ষণ নেই। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় বাজেটে তামাকজাত পণ্যের উপর মূল্যবৃদ্ধির ইঙ্গিত মিললেও এখনও পর্যন্ত সিগারেটের প্যাকেটে ছাপা দামে কোনও পরিবর্তন চোখে পড়েনি। তবে বাস্তব চিত্র একেবারেই ভিন্ন।মেদিনীপুর শহর জুড়ে এখন সিগারেটের কালোবাজারি চরমে। সাধারণত ৫০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা দামের সিগারেটের প্যাকেট প্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ। ফলে নিত্যদিনের ক্রেতাদের পকেটে বাড়তি চাপ পড়ছে।

কেন বাড়ছে দাম? স্থানীয় এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী স্বপন বেড়া জানান, ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছ থেকে এখনও পুরনো প্রিন্ট করা দামের প্যাকেটই সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু সেই প্যাকেটই ব্যবসায়ীদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। নতুন এমআরপি-সহ প্যাকেট না পাওয়ায় লাভ প্রায় শূন্যে ঠেকেছে। তাই বাধ্য হয়েই বেশি দামে সিগারেট বিক্রি করতে হচ্ছে। এর পাশাপাশি পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এই অবস্থায় হস্তক্ষেপ করেছে আই টি সি লিমিটেড। সংস্থার উদ্যোগে জগন্নাথ মন্দির এলাকা-সহ শহরের চারটি জায়গায় চালু হয়েছে ‘ফেয়ার প্রাইস শপ’। এখানে পাইকারি ও খুচরো—দু’ভাবেই সিগারেট বিক্রি করা হচ্ছে। আই টি সি কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা এখনও পর্যন্ত প্রিন্ট করা দামের বেশি কোনও অর্থ নিচ্ছেন না। গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের কাছে আবেদন করা হয়েছে—এমআরপি-র বেশি দামে যেন কেউ সিগারেট না কেনেন। প্রয়োজনে এই ফেয়ার প্রাইস শপ থেকেই সিগারেট সংগ্রহ করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে শহরে মোট চারটি এমন কাউন্টার চালু রয়েছে।