বিহারে ‘নীতীশ যুগ’-এর অবসান, প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী!

নিজস্ব সংবাদদাতা : বিহারের রাজনীতিতে শুরু হল একেবারে নতুন অধ্যায়। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকা নীতীশ কুমারের অধ্যায়ের ইতি টেনে বুধবার শপথ নিলেন বিজেপি নেতা সম্রাট চৌধুরী। পাটনার লোক ভবনে আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে তিনি বিহারের ২৪তম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এই প্রথমবার বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসলেন বিজেপির কোনও নেতা, যা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিহারের রাজনীতিতে মুখ্যমন্ত্রী মানেই এতদিন নীতীশ কুমারের নামই ছিল প্রায় সমার্থক।

জোট বদল, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং নানা সমীকরণের মধ্যেও গত প্রায় ২০ বছর ধরে তিনিই ছিলেন রাজ্যের প্রশাসনিক মুখ। তবে সম্প্রতি তাঁকে রাজ্যসভার প্রার্থী করা হয় এবং শপথ নেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়েন তিনি। বিদায়ী বার্তায় নীতীশ কুমার নতুন সরকারকে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। আজকের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা, চিরাগ পাসওয়ান, জিতন রাম মাঝি-সহ এনডিএ-র একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতা।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই উপস্থিতি শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং বিহারে বিজেপির দীর্ঘমেয়াদি রণকৌশলেরই স্পষ্ট বার্তা। উপমুখ্যমন্ত্রী থেকে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে উঠে এলেন সম্রাট চৌধুরী। নতুন মন্ত্রিসভায় জেডি(ইউ)-র প্রবীণ নেতা বিজয় কুমার চৌধুরী এবং বীজেন্দ্র প্রসাদ যাদব উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। ফলে জোটের ভারসাম্য বজায় রেখেই নতুন সরকার গঠনের পথে হাঁটছে এনডিএ।

সম্রাট চৌধুরীর এই উত্থান একাধিক কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। আরজেডি ও পরে জেডি(ইউ)-তে দীর্ঘ রাজনৈতিক সফরের পর ২০১৭ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। সাংগঠনিক দক্ষতা, ওবিসি ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার জেরে খুব দ্রুতই তিনি বিজেপির অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন। ২০২৪-পরবর্তী রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসে তাঁকে উপমুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছিল, আর এবার সেই অভিজ্ঞতার পুরস্কার মিলল মুখ্যমন্ত্রীর আসনে।