চুয়াডাঙ্গা হাইস্কুলে পালিত সংস্কৃত দিবস, ছাত্রছাত্রীদের নানা পরিবেশনায় মুখর বিদ্যালয়!
নিজস্ব সংবাদদাতা : সংস্কৃত ভাষার ঐতিহ্য, ইতিহাস ও গুরুত্বকে সামনে রেখে মেদিনীপুর সদর ব্লকের চুয়াডাঙ্গা হাইস্কুলে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে পালিত হলো সংস্কৃত দিবস। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দিনভর নানা সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সংস্কৃত ভাষার প্রতি পড়ুয়াদের আগ্রহ ও ভালোবাসা আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।‘বন্দেমাতরম্’ সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর একে একে অনুষ্ঠিত হয় সংস্কৃত স্তোত্রপাঠ, শ্লোক পাঠ, সংস্কৃত কবিতা আবৃত্তি, সংস্কৃত সঙ্গীত পরিবেশন, সঙ্গীতের নৃত্যায়ন, সংস্কৃত গদ্যাংশ পাঠ, শব্দরূপ ও ধাতুরূপ কথন-সহ একাধিক আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান।সংস্কৃত দিবসের তাৎপর্য, সংস্কৃত ভাষার সুদীর্ঘ ইতিহাস এবং ভারতীয় সংস্কৃতি ও শিক্ষাক্ষেত্রে এই প্রাচীন ভাষার অবদান নিয়েও আলোচনা হয়। বক্তারা সংস্কৃত ভাষার ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি ভাষাটির চর্চা ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।অনুষ্ঠানে শুধু ছাত্রছাত্রীরাই নয়, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারাও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের বিভিন্ন পরিবেশনায় অনুষ্ঠানে তৈরি হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক আবহ। শিক্ষকদের অংশগ্রহণ পড়ুয়াদের মধ্যেও বাড়তি উৎসাহের সঞ্চার করে।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শুভেন্দু সিনহা, সহকারী প্রধান শিক্ষক মাতুয়ার মল্লিক, শিক্ষক জগন্নাথ মণ্ডল, ধ্রুবানন্দ ত্রিপাঠী, সুদীপ কুমার খাঁড়া, শুভাশীষ শাসমল, অলকেশ মাইতি এবং শিক্ষিকা সুমনা সামন্ত, রূপা বেরা-সহ বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা।গোটা অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা, সঞ্চালনা ও রূপায়ণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বিদ্যালয়ের সংস্কৃত শিক্ষক প্রদ্যুৎ কুমার জানা এবং সংস্কৃত শিক্ষিকা সরস্বতী দে। তাঁদের পরিকল্পনায় দিনভর নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সংস্কৃত দিবস হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও তাৎপর্যপূর্ণ।সংস্কৃত ভাষার প্রতি পড়ুয়াদের আগ্রহ বাড়ানো এবং প্রাচীন ভারতীয় জ্ঞান-সংস্কৃতির সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচিত করার ক্ষেত্রে চুয়াডাঙ্গা হাইস্কুলের এই উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা।