মা সারদার আদর্শে মানবসেবা, বাঁকুড়ার সেবাশ্রমে নিয়মিত বিনামূল্যে চক্ষু শিবির

প্রেমচাঁদ ফৌজদার:ধর্মীয় ভাবধারার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে জনসেবার বার্তা ছড়িয়ে দিতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে চলেছে বাঁকুড়ার শান্তাশ্রম মায়ের মন্দির তথা শ্রী শ্রী মা সারদার সেবাশ্রম। আশ্রমকে কেন্দ্র করে নিয়মিত বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। তারই অন্যতম উদ্যোগ হিসেবে প্রতি মাসে আয়োজন করা হচ্ছে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা শিবির।সেবাশ্রমের পরিচালক অমর পাঁজা, সুকুমার প্রামাণিক, সমীর পাঁজা ও অমিয় নন্দী জানান, মা সারদার জন্মভিটে শিহরের মাতৃমন্দির থেকে মাতাজিকে সান্তাশ্রমের মাতৃমন্দিরে নিয়ে আসার পর থেকেই আশ্রমকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সেবামূলক কর্মকাণ্ড শুরু হয়। তাঁদের দাবি, গত প্রায় ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে এই জনকল্যাণমূলক কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আশ্রম সূত্রে জানা গিয়েছে, শিহর থেকে সান্তাশ্রমের দূরত্ব প্রায় ২৬ কিলোমিটার। মাতাজিকে সান্তাশ্রমে নিয়ে আসার সময় প্রায় ৩০০ জন সন্ন্যাসিনী র‍্যালিতে অংশ নেন। সেই উপলক্ষে দু’দিন ধরে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। আশ্রম কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই অনুষ্ঠানে প্রায় ২০ হাজার ভক্তের সমাগম হয়েছিল।তবে ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মানবসেবাকেই আশ্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেছেন পরিচালকেরা। সেই উদ্দেশ্যেই নিয়মিত স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে। তার মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে চক্ষু চিকিৎসা পরিষেবা। সেবাশ্রম সূত্রে জানা যায়, প্রতি মাসের ২০ তারিখে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা শিবির আয়োজন করা হয়। শিবিরে রোগীদের চোখ পরীক্ষা, ছানি শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়। একটি শিবিরে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১০০ জন রোগীর চোখ পরীক্ষা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। চিকিৎসকদের পরীক্ষার পর যাঁদের উন্নত চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়, তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী নেতাজী জসিটি চক্ষু হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে ছানি-সহ বিভিন্ন চক্ষু সমস্যার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আর্থিকভাবে অসচ্ছল রোগীদের বিনামূল্যে চশমা দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে আশ্রম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সহযোগিতায় পরিচালিত এই শিবিরে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে প্রত্যন্ত এলাকার আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষদের। যাঁদের পক্ষে নিয়মিত চক্ষু চিকিৎসা করানো সম্ভব নয়, তাঁদের কাছে চিকিৎসার সুযোগ পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন সেবাশ্রমের কর্মকর্তারা। সেবাশ্রমের পরিচালকদের বক্তব্য, মা সারদার আদর্শকে সামনে রেখে ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মানবসেবাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনেও চক্ষু চিকিৎসার পাশাপাশি আরও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণ ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ থাকবে।