বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক, তবু নেই তারকাসুলভ আড়ম্বর—ট্রেনের থার্ড এসি কোচেই সফর শিবম দুবের!
নিজস্ব সংবাদদাতা : আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ঝলমলে মঞ্চে বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব অর্জন করার পরেও মাটির কাছাকাছি থাকা কাকে বলে, তার এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করলেন ভারতীয় ক্রিকেটার Shivam Dube। আইসিসি পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পর আহমেদাবাদ থেকে মুম্বাই ফেরার সময় তিনি বেছে নিলেন একেবারেই সাধারণ পথ—ট্রেনের ‘থার্ড এসি’ কোচ। সাধারণত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের যাতায়াত হয় চার্টার্ড বিমান বা বিজনেস ক্লাসে। কিন্তু সেই সময় কোনও বিমান পরিষেবা না থাকায় বিন্দুমাত্র দ্বিধা বা অভিযোগ না করেই ট্রেনে সফরের সিদ্ধান্ত নেন দুবে।নিজেকে আড়ালে রাখতেই মাথায় টুপি, মুখে মাস্ক এবং গায়ে ফুল-হাতা শার্ট পরে ট্রেন ছাড়ার ঠিক আগে পর্যন্ত নিজের গাড়িতেই অপেক্ষা করেন তিনি। এরপর ভোরের ট্রেন ছাড়ার মুহূর্তে নীরবে উঠে পড়েন থার্ড এসি কোচে। বগির ভেতরে ঢুকে সরাসরি উপরের বার্থে উঠে যান এবং একেবারে সাধারণ যাত্রীর মতোই পুরো সফর সম্পন্ন করেন।
যাত্রাপথে রাতে ওয়াশরুম ব্যবহারের জন্য যখন তিনি নিচে নামেন, তখনও অধিকাংশ যাত্রী টেরই পাননি যে তাঁদের সঙ্গে একই বগিতে সফর করছেন সদ্য বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলের এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।এই সেই ক্রিকেটার, যিনি পুরো টুর্নামেন্টে ২৩৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন এবং ফাইনাল ম্যাচে মাত্র ৮ বলে ২৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
বিশ্বকাপ জয়ের পর দেশে ফেরার আনন্দের মাঝেই আবেগঘন এক মুহূর্ত ভাগ করে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলেন ভারতীয় তারকা অলরাউন্ডার Shivam Dube। দলের চমৎকার অভিযানের পর দেশে ফিরে তিনি Instagram-এ একটি ভিডিও পোস্ট করেন, যা মুহূর্তের মধ্যেই নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।সেই ভিডিওতে দেখা যায়, বিশ্বকাপ জয়ের স্মারক পদকটি নিজের বাবার হাতে তুলে দিচ্ছেন দুবে। আবেগে ভরা সেই মুহূর্তে তিনি নিজের বাবাকেই জীবনের ‘আসল নায়ক’ বলে উল্লেখ করেন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, দুবে সস্নেহে বাবার হাতে পদকটি তুলে দিচ্ছেন। এরপর বাবা-ছেলে একে অপরের দিকে তাকিয়ে হাসেন এবং ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে সেই বিশেষ মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখেন।বিশ্বকাপ ফাইনালের তীব্র চাপের ম্যাচ থেকে শুরু করে ট্রেনের একটি সাধারণ বার্থে নিরিবিলি যাত্রা—এই বৈপরীত্যই তুলে ধরে একজন প্রকৃত ক্রীড়াবিদের সহজ-সরল মানসিকতা।অনেক সময় প্রকৃত চ্যাম্পিয়ন তারাই হন, যারা সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছেও মাটির কাছেই থাকেন। নিঃশব্দে নিজের কাজ করে যান, আলো-আড়ম্বর বা প্রচারের আকাঙ্ক্ষা ছাড়াই এগিয়ে চলেন সামনের পথে। প্রকৃত মহত্ত্ব অনেক সময়ই এমন নিঃশব্দেই ধরা দেয়।