দু’ রাউন্ড গুলি, কিশোরের কাঁধে বিদ্ধ বুলেট—চাঞ্চল্য খড়্গপুরে!

অরিন্দম চক্রবর্তী : পুজোর মুখে ফের গুলির শব্দে চাঞ্চল্য ছড়াল রেলশহর খড়্গপুরে। বুধবার ৭ই অক্টোবর সকাল ১১টা নাগাদ খড়্গপুর পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের ওল্ড সেটেলমেন্ট এলাকায় বাইকে যাওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হল নবম শ্রেণির ছাত্র অক্ষয় কুমার ঝা। ঘটনায় গুরুতর জখম অক্ষয়কে প্রথমে খড়্গপুর রেলওয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে কলকাতায় স্থানান্তর করা হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গিরি ময়দান স্টেশনের সামনে গীতাঞ্জলি কমিউনিটি হলের ঠিক পিছনের রাস্তায় বাইকে করে গিরি ময়দানের দিকে যাচ্ছিলেন সাগর রাও ও অক্ষয় কুমার ঝা। সেই সময় তাঁদের লক্ষ্য করে পরপর দু’ রাউন্ড গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ। প্রথম গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেও দ্বিতীয় গুলি বাইকের পিছনে বসে থাকা অক্ষয়ের ডান কাঁধে লাগে। গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তাতেই গুরুতর জখম হয় সে।প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, হামলাকারী দু’জন একটি স্কুটিতে করে ঘটনাস্থলে এসেছিল। তাদের মাথায় টুপি এবং মুখে মাস্ক ছিল বলে জানা গিয়েছে। ফলে হামলাকারীদের পরিচয় নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে।ঘটনার পরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা শুরু হয়েছে। গুলির ঘটনার নেপথ্যে ব্যক্তিগত শত্রুতা, পুরনো বিবাদ নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।ঘটনার সঙ্গে সাগর রাওয়ের পারিবারিক অতীতের একটি ঘটনাও সামনে এসেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সাগর রাওয়ের বাবা প্রসাদ রাও, যিনি ‘শ্রীনু নাইডু’-ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলে দাবি, কয়েক বছর আগে এই ওল্ড সেটেলমেন্ট এলাকাতেই আততায়ীদের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন। সেই পুরনো ঘটনার সঙ্গে বর্তমান গুলিকাণ্ডের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তাও তদন্তের আওতায় রয়েছে।ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। শহর বিজেপি নেতা ওমপ্রকাশ সিং দাবি করেন, খড়্গপুরে কোনওভাবেই মাফিয়া-রাজ চলতে দেওয়া হবে না। তাঁর বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং খড়্গপুরের বিধায়ক তথা মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ শহরে নতুন করে কোনও অশান্তি বরদাস্ত করবেন না।পুজোর আগে ব্যস্ত এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি চালানোর ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে শহরের নিরাপত্তা নিয়ে। আততায়ীদের দ্রুত গ্রেফতার করার পাশাপাশি গুলির নেপথ্যে আসল কারণ কী, তা উদঘাটন করাই এখন পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।