‘এই হয়রানির চেয়ে মরে যাওয়াই ভালো’— বনগাঁর এসআইআর শুনানিতে চরম ভোগান্তির অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ

নিজস্ব সংবাদদাতা : নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও অসুস্থ ও বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের বাড়িতে বসেই এসআইআর (SIR) শুনানি হওয়ার কথা— কিন্তু বাস্তবে তার উল্টো ছবি ধরা পড়ল উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ মাদ্রাসার শুনানিতে। সোমবারের শুনানিতে উঠে এল চরম হয়রানির অভিযোগ, যা ঘিরে তীব্র প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে।

দিঘারী গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ৫০ বছরের বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি শহিদুল মণ্ডল ১৪০০ টাকা ভাড়া দিয়ে টোটোতে চেপে বনগাঁ মাদ্রাসায় শুনানিতে আসেন। শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পড়তে হয় তাঁকে। ক্ষোভ উগরে দিয়ে শহিদুল বলেন,
“এই হয়রানির চেয়ে মরে যাওয়াই ভালো। এ যা করছে, সহ্য করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে আমাদের মতো মানুষের পক্ষে এটা অসম্ভব।”

পরবর্তীতে পুলিশের সহযোগিতায় টোটোতেই বসে তাঁর শুনানির কাজ সম্পন্ন করেন আধিকারিকরা। তবে এখানেই উঠছে বড় প্রশ্ন— যদি শেষ পর্যন্ত পুলিশ ও আধিকারিকরা এই ব্যবস্থা নিতেই পারেন, তাহলে প্রথম থেকেই বাড়িতে বসে শুনানি কেন করা হলো না?

শুধু শহিদুল নন, একই ছবি ধরা পড়ে এক বৃদ্ধার ক্ষেত্রেও। বনগাঁ ব্লকের সুন্দরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পিপলিপড়া এলাকার ৭৪ বছরের জয়শ্রী সর্দার শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে ছেলে ও নাতির সঙ্গে শুনানিতে আসেন। অসুস্থ অবস্থায় লাইনে দাঁড়িয়ে পড়তেই তাঁর শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। পরে পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে শুনানির প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সাহায্য করে। জয়শ্রী সর্দার বলেন, “আমায় হেয়ারিংয়ে ডেকেছে। আমি না এলে ছেলেদের নাম থাকবে না। আমার শ্বাসকষ্ট আছে, শরীরে জোর নেই। নাতি গাড়িতে করে আমাকে নিয়ে এসেছে।”

একাধিক ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে— নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ কি আদৌ মাঠপর্যায়ে মানা হচ্ছে? অসুস্থ ও বিশেষভাবে সক্ষম মানুষদের এভাবে শুনানির লাইনে দাঁড় করানো কি মানবিক? নাকি কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে নিয়ম?

বনগাঁ মাদ্রাসার এসআইআর শুনানিতে দেখা এই চিত্র নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল। প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একটাই— ভোটার তালিকার নামে এই অমানবিক ভোগান্তির দায় নেবে কে?