আজ সোমবতী অমাবস্যা: পুণ্যস্নান, দান ও পূজায় মিলতে পারে বিশেষ শুভফল!
নিজস্ব সংবাদদাতা : প্রায় ৪০০ বছর পর মহাযোগ, ধর্মপ্রাণ মানুষের ভিড় মন্দির ও গঙ্গার ঘাটে!আজ পালিত হচ্ছে পবিত্র সোমবতী অমাবস্যা। জ্যোতিষ ও ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এবারের সোমবতী অমাবস্যা অত্যন্ত বিশেষ, কারণ প্রায় ৩৯৬ বছর পর এক বিরল শুভ যোগের সৃষ্টি হয়েছে। জানা গিয়েছে, এর আগে শেষবার এই যোগ দেখা গিয়েছিল ১৬৩০ সালের ১০ জুন। আবার এই ধরনের বিরল সংযোগ গঠিত হতে অপেক্ষা করতে হবে আরও বহু শতাব্দী।হিন্দু ধর্মে অমাবস্যা তিথির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তার মধ্যে সোমবারে পড়া অমাবস্যাকে বলা হয় সোমবতী অমাবস্যা। ‘সোম’ শব্দের অর্থ সোমবার এবং ‘অমাবস্যা’ হল চন্দ্রপক্ষের শেষ দিন। এই তিথিকে অত্যন্ত পবিত্র ও ফলদায়ক বলে মনে করা হয়।ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, এই দিনে স্নান, দান, জপ, তপস্যা এবং পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণ ও শ্রাদ্ধকর্ম করলে বিশেষ পুণ্য লাভ হয়। অনেক ভক্তই ভোরবেলা পবিত্র নদীতে স্নান করেন, বিশেষ করে গঙ্গাস্নানকে অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়।
বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে আধ্যাত্মিক সাধনা ও সৎকর্ম জীবনে সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মানসিক প্রশান্তি নিয়ে আসে।পুরাণ ও ধর্মীয় গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে, সোমবতী অমাবস্যায় পিতৃপুরুষদের স্মরণ করে দান-ধ্যান ও পূজা-অর্চনা করলে পূর্বপুরুষদের আশীর্বাদ লাভ করা যায়। পাশাপাশি সংসারের নানা বাধা-বিপত্তি দূর হয়ে সৌভাগ্যের দ্বার উন্মুক্ত হয় বলেও বিশ্বাস করেন ভক্তরা।দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আজ মন্দিরে বিশেষ পূজা, হোম-যজ্ঞ এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ভোর থেকেই বহু মানুষ নদীঘাট ও তীর্থস্থানে পুণ্যস্নান এবং পূজার্চনায় অংশ নিচ্ছেন।ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে আজকের দিনটি শুধুমাত্র একটি তিথি নয়, বরং আধ্যাত্মিক শক্তি সঞ্চয় ও আত্মশুদ্ধির এক বিশেষ সুযোগ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।