'আমাকে নয়, সরকারকে প্রশ্ন করুন'—অনশন না ভাঙার বার্তা সোনম ওয়াংচুকের!
নিজস্ব সংবাদদাতা : লাদাখের বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের আমরণ অনশন ১৮ দিনে পড়তেই তাঁর শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়েছে। দীর্ঘদিন খাদ্যগ্রহণ না করায় তাঁর ওজন দ্রুত কমেছে, শরীর দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং একাধিক শারীরিক জটিলতা দেখা দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তাঁকে অবিলম্বে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা ও পুষ্টির ব্যবস্থা করার আবেদন জানানো হয়েছে আদালতে। গত ২০ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে সিটিজেন্স ফর জাস্টিস অ্যান্ড পিস (CJP)-এর প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হয়। আন্দোলনের শুরু থেকেই সোনম ওয়াংচুক এই কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানান। পরে তিনি ঘোষণা করেন, ২৭ জুনের মধ্যে কেন্দ্র সরকার আলোচনায় না বসলে তিনি আমরণ অনশনে বসবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারের কাছ থেকে কোনও ইতিবাচক সাড়া না মেলায় ২৮ জুন থেকে অনশন শুরু করেন তিনি।
চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ সময় অনাহারে থাকলে শরীরে নানা ধরনের জটিল পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। সোনম ওয়াংচুকের ক্ষেত্রেও সেই আশঙ্কাই ক্রমশ বাড়ছে। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতির খবর প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এদিকে, দেশের বিশিষ্ট সাহিত্যিক, শিল্পী, বুদ্ধিজীবী এবং বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা সোনম ওয়াংচুককে অনশন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছেন। সাহিত্যিক অরুন্ধতী রায়, অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ ও রত্না পাঠক শাহ এবং অর্থনীতিবিদ জয়তী ঘোষ যৌথভাবে তাঁর আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে অনশন ভাঙার আবেদন করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, আন্দোলনের উদ্দেশ্যের প্রতি পূর্ণ সমর্থন থাকলেও তাঁর জীবন রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।তাঁর প্রতিবাদের সমর্থনে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখলেন ঋদ্ধি সেন,অপর্ণা সেন।
প্রবীণ বলিউড অভিনেত্রী জিনাত আমনও সামাজিক মাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ইনস্টাগ্রামে তিনি লেখেন, একটি সংবাদ প্রতিবেদন থেকে জানতে পেরেছেন যে সোনম ওয়াংচুকের শরীরের পেশির ভর দ্রুত কমছে এবং তিনি তীব্র শারীরিক কষ্টের মধ্যে রয়েছেন। তবে অনশন ভাঙার অনুরোধের জবাবে সোনমের বক্তব্য, "আমাকে অনশন ভাঙতে বলবেন না। বরং সরকারকে প্রশ্ন করুন, তারা কেন আলোচনায় বসতেও রাজি নয়?"সোনম ওয়াংচুকের এই অবস্থাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনার তীব্রতা বাড়ছে। আন্দোলনের ভবিষ্যৎ এবং সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর সবার।