বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সলিল চৌধুরীর জন্মশতবর্ষে সুরের আবেগঘন উৎসব, স্মরণে এক ঐতিহাসিক সন্ধ্যা!
নিজস্ব সংবাদদাতা : এক অনন্য সাংস্কৃতিক আবহে ভরে উঠল Vidyasagar University-এর প্রাঙ্গণ। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার সাক্ষী থাকল এক গৌরবোজ্জ্বল মুহূর্তের, যেখানে ভারতীয় সংগীত জগতের কিংবদন্তি Salil Chowdhury-এর জন্মশতবর্ষ উদ্যাপন করা হল গভীর শ্রদ্ধা ও উৎসাহের সঙ্গে।বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য Professor Deepak Kumar Kar-এর প্রেরণা ও উদ্যোগে মিউজিক ক্লাবের আয়োজনে এই বিশেষ অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে এক স্মরণীয় মিলনমেলা। উপস্থিত ছিলেন কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক অমল কুমার মণ্ডল, কনভেনর অধ্যাপক সৌমেন মল্লিক, অধ্যাপক জয়জিত ঘোষ, অধ্যাপিকা নিবেদিতা সাহু ভট্টাচার্য, অধ্যাপক অরিন্দম গুপ্ত, আইকিউএসি অধিকর্তা অধ্যাপক মধুমঙ্গল পাল, অধ্যাপক সুজিত পাল সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, আধিকারিক ও ছাত্রছাত্রীরা।অনুষ্ঠানের সূচনা হয় স্বাগত ভাষণের মাধ্যমে, যা প্রদান করেন অধ্যাপক সৌমেন মল্লিক।
পরে ধন্যবাদজ্ঞাপন করেন অধ্যাপক অমল কুমার মণ্ডল। গোটা অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ড. সাগরিকা ঘোষ, ড. দীপান্বিতা দত্ত, ড. প্রিয়ঙ্কা হালদার মল্লিক এবং অধ্যাপক জয়জিত ঘোষ।সাংগীতিক পরিবেশনার মূল আকর্ষণ ছিল সলিল চৌধুরীর অমর সৃষ্টি। “পাগল হাওয়া”, “কাঁহি দূর যখন”, “আমায় প্রশ্ন করে”, “গাঁয়ের বধূ”, “বাজে গো বীণা” সহ একাধিক কালজয়ী গান একক ও দ্বৈত কণ্ঠে পরিবেশিত হয়ে উপস্থিত দর্শকদের আবেগাপ্লুত করে তোলে।সঙ্গীতের আবহকে আরও সমৃদ্ধ করেন কলকাতা থেকে আগত বিশিষ্ট সিন্থেসাইজার শিল্পী বাপ্পা মুখার্জী, যিনি অতীতে সলিল চৌধুরীর সঙ্গে কাজ করেছেন এবং বর্তমানে Kalyan Sen Barat-এর সঙ্গে যুক্ত। তবলায় সঙ্গত করেন কৌশিকসহ অন্যান্য শিল্পীরা। এছাড়াও, উদয়শঙ্কর ডান্স ক্লাবের ছাত্রছাত্রীদের মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশনা অনুষ্ঠানে নতুন মাত্রা যোগ করে।
বিবেকানন্দ সভাগৃহে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান এক আবেগঘন ও সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে উপাচার্য Professor Deepak Kumar Kar মিউজিক ক্লাবের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং Ishwar Chandra Vidyasagar ও সলিল চৌধুরীর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অগ্রগতির জন্য নতুন উদ্যোগ গ্রহণের প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন।সবশেষে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের গৌরবময় সমাপ্তি ঘটে। এই আয়োজন শুধু স্মৃতিচারণ নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক চেতনার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল বলে মত প্রকাশ করেছেন উপস্থিত সকলেই।