“রাজ্যজুড়ে কড়াকড়ি! মদের বিক্রি বন্ধ থেকে বাইকে নিষেধ—কী বলছে কমিশন?”
নিজস্ব সংবাদদাতা: ‘ছাব্বিশের নির্বাচন যুদ্ধ’-কে ঘিরে সুষ্ঠু ও অবাধ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে একের পর এক কড়া ও নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল Election Commission of India। রাজ্যজুড়ে একাধিক বিধিনিষেধ জারি করে ইতিমধ্যেই তৎপর প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী।সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে রয়েছে—নির্বাচনের বহু আগেই গোটা রাজ্যে মদের দোকান ও পানশালা বন্ধ রাখার নির্দেশ। সাধারণত ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে নির্দিষ্ট এলাকায় এই নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। তবে এবার নিয়ম বদলে প্রথম দফার আগে ২০ থেকে ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার আগে ২৫ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে মদের দোকান বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়াও ৪ মে ভোটগণনার দিনও সারাদিন বন্ধ থাকবে সমস্ত মদের দোকান ও বার।নির্বাচনকে ঘিরে মোটরবাইক চলাচলেও জারি হয়েছে কড়া বিধিনিষেধ। ভোটের দু’দিন আগে থেকেই বাইক র্যালি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জরুরি পরিষেবা ছাড়া সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত বাইক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকছে। পাশাপাশি সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত একজনের বেশি বাইকে চড়া যাবে না, যদি না বিশেষ অনুমতি থাকে। ভোটের দিন অবশ্য ভোটারদের সুবিধার্থে সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাইক ব্যবহারে ছাড় দেওয়া হয়েছে।পর্যটন কেন্দ্রগুলিতেও জারি হয়েছে বিশেষ নির্দেশ। ২১ এপ্রিল বিকেল থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত Digha, Mandarmani ও Tajpur-এর মতো সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় বাইরের পর্যটকদের থাকা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। হোটেল ও গেস্ট হাউসে কোনও বহিরাগতকে থাকতে দেওয়া যাবে না, এমনকি রাজনৈতিক দলের প্রচারকারীদেরও নয়। নিয়ম ভাঙলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ২০২৩-এর ২২৩ ধারায় কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে।ভোটের দিন বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে ভোটার ছাড়া অন্য কারও প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রতিটি ভোটারের হাতে ভোটার স্লিপ পৌঁছে দেওয়াও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বিএলওদের জন্য।নিরাপত্তা ব্যবস্থায়ও বড় বদল এনেছে কমিশন। প্রথম দফার তিন দিন আগে থেকেই কার্যত থানার নিয়ন্ত্রণ আধা সামরিক বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে পুলিশের অনুমতির অপেক্ষা না করেই সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। যদিও পরবর্তীতে দায়ভার বহন করতে হবে সংশ্লিষ্ট থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিককেই।সব মিলিয়ে, West Bengal Elections 2026-এর আগে কঠোর বিধিনিষেধের জেরে রাজ্যজুড়ে কড়াকড়ি চরমে। নির্বাচন কমিশনের দাবি, এই পদক্ষেপগুলির একমাত্র লক্ষ্য শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করা। তবে এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্তগুলি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।