লোডশেডিং ও স্মার্ট মিটার ইস্যুতে পাঁশকুড়ায় তীব্র প্রতিবাদ, বিদ্যুৎ অফিসে বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন

নিজস্ব সংবাদদাতা: জনস্বার্থবিরোধী স্মার্ট প্রিপেইড মিটার বসানোর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা, বিদ্যুতের মাশুল বৃদ্ধির আশঙ্কা এবং পাঁশকুড়া সাপ্লাই এলাকায় দীর্ঘদিনের লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজ সমস্যার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার পাঁশকুড়া বিদ্যুৎ দফতরের কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের সামনে বিক্ষোভে সামিল হলেন শতাধিক বিদ্যুৎ গ্রাহক। কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতীকী স্মার্ট মিটার পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানানো হয় এবং বিদ্যুৎ দফতরের স্টেশন ম্যানেজারের হাতে ৮ দফা দাবি-সংবলিত স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়।অল বেঙ্গল ইলেকট্রিসিটি কনজিউমার্স অ্যাসোসিয়েশন (অ্যাবেকা)-এর পাঁশকুড়া জোনাল কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন সংগঠনের জেলা অফিস সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়ক, অসিত রায়, নিলয় খালুয়া, কার্তিক হাজরা, স্বপন খাঁড়া-সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। বিক্ষোভ সমাবেশে মূল বক্তব্য রাখেন সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক সুব্রত বিশ্বাস। পরে সংগঠনের প্রবীণ নেতা অসিত রায়ের নেতৃত্বে প্রতীকী স্মার্ট মিটার দাহ করা হয়। কর্মসূচির শেষে পাঁশকুড়া পুরাতন বাজার এলাকায় একটি বিক্ষোভ মিছিলও অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সুব্রত বিশ্বাস দাবি করেন, বিদ্যুৎ আজ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় পরিষেবা। কিন্তু স্মার্ট প্রিপেইড মিটার চালুর মাধ্যমে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর নতুন আর্থিক বোঝা চাপানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, প্রিপেইড ব্যবস্থায় আগে টাকা জমা না দিলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। পাশাপাশি ‘টাইম অফ ডে’ (TOD) ব্যবস্থা এবং ডাইনামিক প্রাইসিং চালুর মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে বিদ্যুতের আলাদা আলাদা মূল্য নির্ধারণ করে গ্রাহকদের কাছ থেকে বেশি টাকা আদায়ের সুযোগ তৈরি হবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কেন্দ্র সরকারের রিভ্যাম্পড ডিস্ট্রিবিউশন সেক্টর স্কিম (RDSS)-এর আওতায় এই স্মার্ট প্রিপেইড মিটার বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংগঠনের দাবি, মিটারের মূল্যও গ্রাহকদের কাছ থেকেই কিস্তিতে আদায় করা হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে। এছাড়া স্মার্ট প্রযুক্তি চালুর ফলে ভবিষ্যতে মিটার রিডার ও বিদ্যুৎ দফতরের বহু কর্মচারীর চাকরি সংকটে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

অন্যদিকে সংগঠনের জেলা অফিস সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়ক অভিযোগ করেন, গত কয়েক মাস ধরে পাঁশকুড়া সাপ্লাই এলাকার বিভিন্ন গ্রামীণ অঞ্চলে সামান্য ঝড়, বৃষ্টি বা মেঘলা আবহাওয়াতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এতে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। এই পরিস্থিতির পরিবর্তনের দাবিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে স্টেশন ম্যানেজারের হাতে ৮ দফা দাবি-সংবলিত স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। দাবিগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল— জোর করে স্মার্ট মিটার বসানো বন্ধ করা, গৃহস্থালিতে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত ও কৃষিক্ষেত্রে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ, বর্ধিত ফিক্সড ও মিনিমাম চার্জ প্রত্যাহার, গ্রাহকদের জমা সিকিউরিটির ওপর আইনানুগ সুদ প্রদান, অতিরিক্ত নিরাপত্তা আমানত আদায় বন্ধ, মাইসোরা ও কেশাপাট-সহ বিভিন্ন এলাকায় নতুন ফিডার চালু করে লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজ সমস্যার সমাধান, পুরনো বিদ্যুৎ লাইন ও সরঞ্জাম দ্রুত পরিবর্তন, রক্ষণাবেক্ষণে কর্মী সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সাপ্লাই এলাকায় দ্রুত কেবল লাইনের ব্যবস্থা করা। সংগঠনের দাবি, স্টেশন ম্যানেজার স্মারকলিপি গ্রহণ করে স্থানীয় সমস্যাগুলির যৌক্তিকতা স্বীকার করেছেন এবং সেগুলি সমাধানের বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন।বিদ্যুৎ পরিষেবা ও স্মার্ট মিটার ইস্যুতে এই বিক্ষোভের মাধ্যমে গ্রাহকদের অসন্তোষ যে ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে, তা এদিনের কর্মসূচি থেকেই স্পষ্ট হয়েছে। আগামী দিনে দাবিগুলি বাস্তবায়িত না হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার ইঙ্গিতও দিয়েছে সংগঠন।