আইআইটি খড়গপুরে হিন্দি টাইপিং প্রতিযোগিতা ও কর্মশালা, দাপ্তরিক কাজে হিন্দির ব্যবহার বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ!
নিজস্ব সংবাদদাতা : দাপ্তরিক কাজে হিন্দির কার্যকর ব্যবহার এবং হিন্দি টাইপিং দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি) খড়গপুরের সরকারি ভাষা বিভাগ এবং খড়গপুর নগর সরকারি ভাষা বাস্তবায়ন কমিটি (নোরকাস)-এর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হল হিন্দি টাইপিং প্রতিযোগিতা ও বিশেষ কর্মশালা।কর্মসূচির প্রথম পর্বে আইআইটি খড়গপুরের তক্ষশীলা ক্যাম্পাসের সিআইসি ল্যাবরেটরিতে হিন্দি টাইপিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। নোরকাসের অন্তর্গত বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের মোট ২৩ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী উৎসাহের সঙ্গে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। পরবর্তী পর্বে বিক্রমশীলা ক্যাম্পাসের গার্গী সভা অডিটোরিয়ামে "অফিসে হিন্দিতে কাজ করার জন্য কম্পিউটিং টুলস" শীর্ষক একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইআইটি খড়গপুরের সরকারি ভাষা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক অশোক মিশ্র, রেলওয়ে, কালাইকুন্ডা এয়ার ফোর্স স্টেশন, বিভিন্ন জাতীয়কৃত ব্যাংক ও অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা। কর্মশালায় প্রায় ৮০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা অংশগ্রহণ করেন।কর্মশালার মূল বক্তা ছিলেন ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি ভাষা বিভাগের হিন্দি শিক্ষণ প্রকল্পের হিন্দি টাইপিং ও শর্টহ্যান্ডের উপ-পরিচালক ড. জিতেন্দ্র প্রসাদ।
তিনি দাপ্তরিক কাজে আধুনিক কম্পিউটিং প্রযুক্তির মাধ্যমে হিন্দির সহজ, দ্রুত ও কার্যকর ব্যবহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে হিন্দি টাইপিং শেখা, টাইপিং গতি বৃদ্ধি এবং ইউনিকোড-ভিত্তিক স্ট্যান্ডার্ড (ইনস্ক্রিপ্ট) কীবোর্ড ব্যবহারের গুরুত্ব সম্পর্কেও বিস্তারিত আলোচনা করেন।তিনি জানান, ফোনেটিক কীবোর্ডের তুলনায় স্ট্যান্ডার্ড ইউনিকোড-ভিত্তিক কীবোর্ড ব্যবহার করলে হিন্দিতে আরও দ্রুত, নির্ভুল ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করা সম্ভব। কর্মশালাকে আরও প্রাণবন্ত করতে অংশগ্রহণকারীদের মঞ্চে ডেকে হাতে-কলমে হিন্দি টাইপিংয়ের অনুশীলনও করান তিনি। এতে উপস্থিতদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয় এবং তাঁদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও সমাধান করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে অংশগ্রহণকারী, অতিথি ও উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্মারক হিসেবে বিভিন্ন তথ্যসমৃদ্ধ ও প্রয়োজনীয় বই উপহার দেওয়া হয়। এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য ছিল সরকারি ভাষা হিসেবে হিন্দির ব্যবহার এবং ভাষা-সংক্রান্ত জ্ঞানচর্চাকে আরও উৎসাহিত করা।সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সিনিয়র হিন্দি অফিসার ড. রাজীব কুমার রাওয়াত। শেষে সিনিয়র হিন্দি অনুবাদক সুকন্যা শর্মা উপস্থিত সকল অতিথি, বক্তা ও অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।আয়োজকদের মতে, এই কর্মশালা শুধু হিন্দি টাইপিং দক্ষতা বৃদ্ধিতেই নয়, সরকারি দপ্তরে হিন্দির কার্যকর প্রয়োগ ও ডিজিটাল ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।