খড়গপুরে সুকান্তের বিস্ফোরক মন্তব্য, ‘তৃণমূল নেতার হাতে পিস্তল থাকবে—এটাই স্বাভাবিক!’

নিজস্ব সংবাদদাতা : খড়গপুরে বিজেপির প্রশিক্ষণ শিবির থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে একাধিক ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তৃণমূল নেতার হাতে পিস্তল থাকার ছবি ভাইরাল হওয়া থেকে শুরু করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ পরিচালন সমিতি, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার এবং ভাঙড়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি—বিভিন্ন বিষয়েই কড়া মন্তব্য করেন তিনি।খড়গপুর শহরের চৌরঙ্গিতে একটি লজে দু’দিন ধরে চলছে বিজেপির মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলার ‘পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় প্রশিক্ষণ মহা অভিযান ২০২৬’। শনিবার সেই কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন সুকান্ত মজুমদার। কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সরব হন তিনি।যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিতে প্রাক্তন উপাচার্য শুভশঙ্কর সরকার আপত্তি জানানো প্রসঙ্গে সুকান্ত বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। তদন্ত কমিটি কীভাবে গঠন হবে এবং কাকে দিয়ে তদন্ত করানো হবে, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যই ঠিক করবেন। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি পদে স্থানীয় শাসকদলের বিধায়ক বা সাংসদদের নিয়োগ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে সুকান্তের দাবি, এই সিদ্ধান্ত আপাতত সাময়িকভাবে নেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, অনেক অধ্যাপকই বর্তমানে বিধায়কদের থেকেও বেশি রাজনৈতিক হয়ে পড়েছেন। পরিস্থিতির ভারসাম্য ফেরাতে কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।এরপরই তৃণমূল নেতার হাতে পিস্তল থাকার ছবি ভাইরাল হওয়ার প্রসঙ্গে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, “তৃণমূল নেতার হাতে পিস্তল থাকবে, এতে আর ভাইরাল হওয়ার কী আছে!” এরপরই তিনি দাবি করেন, তৃণমূল নেতাদের হাতে বোমা-বন্দুক থাকা কিংবা তাঁদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠা ‘স্বাভাবিক বিষয়’। তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।ছত্তীসগঢ়ে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রসঙ্গেও রাজ্যের শিক্ষকদের একাংশকে নিশানা করেন সুকান্ত। তাঁর বক্তব্য, অধ্যাপকরা সমাজের মেরুদণ্ড। সেই শ্রেণির কেউ যদি প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন, তাহলে সমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়।মালদার গাজোলে এক মহিলার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা না পাওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন তিনি। সুকান্ত বলেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। পুলিশ তদন্ত করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করবে। তাঁর দাবি, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে এবং আগামী দিনে আরও মানুষকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।ভাঙড়ে আইএসএফ ছেড়ে আসা আরাবুল ইসলামকে ঘিরে হামলার প্রসঙ্গে অবশ্য বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাননি সুকান্ত। তিনি বলেন, “আরাবুল-টারাবুল নিয়ে আমি চিন্তিত নই।”অন্যদিকে, ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগে তৃণমূল নেতা অতীন ঘোষের মেয়ের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়েরের বিষয়টিও উঠে আসে সাংবাদিকদের প্রশ্নে। সেই প্রসঙ্গেও রাজ্যের শাসকদলকে আক্রমণ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।সব মিলিয়ে খড়গপুরে বিজেপির প্রশিক্ষণ শিবিরের মঞ্চ থেকে সুকান্ত মজুমদারের একাধিক মন্তব্যকে ঘিরে ফের উত্তপ্ত হয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ।