রানী ইন্দিরা দেবী গভর্নমেন্ট গার্লস কলেজে —‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচিতে প্রতিকূলতা জয় করে এগিয়ে চলার বার্তা সুমন্ত মুর্মুর

নিজস্ব সংবাদদাতা : পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে সপ্তাহব্যাপী ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঝাড়গ্রাম জেলার রানী ইন্দিরা দেবী গভর্নমেন্ট গার্লস কলেজে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে ছাত্রীদের সামনে নিজের জীবনসংগ্রামের কথা তুলে ধরে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্যারা-অ্যাথলিট, পর্বতারোহী, লেখক ও গবেষক এবং ‘তেঙ্গোন ফাউন্ডেশন’-এর প্রতিষ্ঠাতা সুমন্ত মুর্মু। জঙ্গলমহলের ভূমিপুত্র ও সাঁওতাল সমাজের উত্তরাধিকারী সুমন্ত মুর্মু নিজের জীবনের কঠিন সময় থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন ছাত্রীদের সঙ্গে। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে আত্মবিশ্বাস, দায়িত্ববোধ, দেশপ্রেম এবং নিজের শিকড়ের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা।
জাতীয় পতাকার তিনটি রং-কেও তিনি নিজের জীবনসংগ্রামের সঙ্গে মিলিয়ে ব্যাখ্যা করেন। তাঁর কথায়, গেরুয়া সাহস ও আত্মত্যাগের প্রতীক, সাদা সত্য ও মানসিক প্রশান্তির প্রতীক এবং সবুজ প্রকৃতি, মাটি ও নিজের শিকড়ের সঙ্গে গভীর সম্পর্কের প্রতীক। পতাকার কেন্দ্রে থাকা অশোকচক্রকে তিনি ব্যাখ্যা করেন জীবনের নিরন্তর চলার প্রতীক হিসেবে।তিনি বলেন, জীবনে ব্যর্থতা, হতাশা কিংবা প্রতিকূলতা আসতে পারে। কিন্তু থেমে গেলে চলবে না। অশোকচক্র যেমন নিরন্তর ঘুরে চলেছে, তেমনই প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে মানুষকে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।সুমন্ত মুর্মুর বক্তব্যে বিশেষভাবে উঠে আসে বিশ্ব আদিবাসী দিবসের চেতনা, নিজের আদিবাসী পরিচয় এবং জাতীয়তাবোধের সমন্বয়। জঙ্গলমহলের মাটি, নিজের সাংস্কৃতিক শিকড় এবং ভারতের জাতীয় পরিচয়কে একসূত্রে বেঁধে তিনি তরুণ প্রজন্মের সামনে আত্মমর্যাদা ও দেশপ্রেমের ইতিবাচক বার্তা তুলে ধরেন।
তাঁর জীবনসংগ্রামের কাহিনি মন দিয়ে শোনেন কলেজের ছাত্রীরা। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও কীভাবে নিজের স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে যাওয়া যায়, তাঁর বক্তব্যে সেই বাস্তব শিক্ষাই ফুটে ওঠে। অনুষ্ঠানটি শেষ পর্যন্ত শুধুমাত্র ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচির একটি পর্বে সীমাবদ্ধ থাকেনি। সুমন্ত মুর্মুর বক্তব্য ছাত্রীদের কাছে হয়ে উঠেছে সংগ্রাম, আত্মবিশ্বাস, দেশপ্রেম এবং নিজের শিকড়কে সম্মান করার এক জীবন্ত পাঠ।