সূর্যবংশীর সুপার শো, তবু শেষ হাসি কি SRH-এর? শেষ পাঁচ ওভারে ভেঙে পড়ল রাজস্থান
নিজস্ব সংবাদদাতা : আইপিএলের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে একসময় মনে হচ্ছিল সহজেই ২৫০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যাবে রাজস্থান রয়্যালস। কিন্তু ম্যাচের শেষ পাঁচ ওভারে নাটকীয় পতন, অদ্ভুত রানিং বিটুইন দ্য উইকেট এবং একের পর এক উইকেট হারিয়ে কার্যত নিজেদের হাতেই ম্যাচ কঠিন করে তুলল রাজস্থান। দুর্দান্ত কামব্যাক করল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।ম্যাচের শুরু থেকেই ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালান তরুণ বৈভব সূর্যবংশী। পাওয়ারপ্লে জুড়ে হায়দরাবাদের বোলারদের উপর কার্যত ঝড় বইয়ে দেন তিনি। মাঠের চারদিকে একের পর এক বাউন্ডারি ও বিশাল ছক্কায় দ্রুত রান তুলতে থাকে রাজস্থান। অন্যদিকে যশস্বী জয়সওয়াল ছিলেন অনেকটাই ধীর। ১৬ বলে মাত্র ১৯ রান করলেও সূর্যবংশীর বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে তা বিশেষ চোখে পড়েনি। তবে সূর্যবংশী আউট হওয়ার পর ম্যাচে ধীরে ধীরে ফিরতে শুরু করে SRH। ১০.২ ওভারে ২৯ রান করে আউট হন জয়সওয়াল। সেই সময় রাজস্থানের স্কোর ছিল ১৩৭/২। এরপর ইনিংসের হাল ধরেন ধ্রুব জুরেল। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট করতে দেখা যায় তাঁকে। মাত্র ২০ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করে রাজস্থানের রানরেট আরও বাড়িয়ে দেন তিনি। বিশেষ করে প্যাট কামিন্সের এক ওভারে স্কুপ, পুল ও কভার ড্রাইভে কার্যত ছিন্নভিন্ন করে দেন হায়দরাবাদের বোলিং আক্রমণ। তবে দুরন্ত ইনিংসের ইতি ঘটে ১৩.৫ ওভারে। হিঞ্জের শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে ক্যাচ দেন জুরেল। তখন RR-এর স্কোর ১৯২/৩। এরপর রিয়ান পরাগও দ্রুত রান তুলতে শুরু করেন। মাত্র ১২ বলে ২৬ রান করেন তিনি। কিন্তু বড় শট খেলতে গিয়ে লং-অনে ধরা পড়েন। হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যার কারণে তাঁকে কিছুটা অস্বস্তিতেও দেখা যাচ্ছিল। পরাগের আউটের পর থেকেই যেন ছন্দ হারিয়ে ফেলে রাজস্থান। দাসুন শানাকা বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন। এরপর জোফ্রা আর্চারও লং-অনে দুর্দান্ত ক্যাচে ফিরে যান প্যাভিলিয়নে। ১৯তম ওভারে নীতীশ কুমার রেড্ডির নিখুঁত ওয়াইড ইয়র্কার রাজস্থানকে পুরোপুরি চাপে ফেলে দেয়। সেই ওভারে আসে মাত্র ৫ রান। শেষ ওভারে দেখা যায় আরও বড় নাটক। রবীন্দ্র জাডেজা প্রথম বলেই সিঙ্গল নেন, যদিও তিনিই ছিলেন শেষ স্বীকৃত ব্যাটার। এরপর নান্দ্রে বার্গার অপ্রয়োজনীয় দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে রান আউট হন। এই সিদ্ধান্তে হতবাক হয়ে যান সমর্থকেরা। সবচেয়ে বড় চমক আসে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার ঘোষণায়। অনেকেই ভেবেছিলেন তুষার দেশপাণ্ডে বা রবি বিষ্ণোই নামবেন। কিন্তু রাজস্থান মাঠে আনে তুলনামূলক অনভিজ্ঞ বাঁহাতি পেসার সুশান্ত মিশ্রকে, যিনি এর আগে একমাত্র ম্যাচে ৪৬ রান খরচ করেছিলেন উইকেট ছাড়াই।
শেষ পাঁচ ওভারে মাত্র ৩৬ রান তুলে ৫ উইকেট হারায় রাজস্থান রয়্যালস। যে দল একসময় ২৫০-র বেশি রানের দিকে এগোচ্ছিল, তাদের ইনিংস শেষ হয় ২৪৩-এ আট উইকেটের বিনিময়ে । এখন সব নজর দ্বিতীয় ইনিংসে। সূর্যবংশীর বিধ্বংসী ইনিংস কি শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জেতাতে পারবে রাজস্থানকে? নাকি দুরন্ত প্রত্যাবর্তন সম্পূর্ণ করবে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ—সেই উত্তর দেবে বাকি ম্যাচ।