দেড় বছর পর সাসপেনশন প্রত্যাহার, মেদিনীপুর মেডিকেলে কাজে ফিরলেন চিকিৎসক ও প্রাক্তন সুপার!

সেখ ওয়ারেশ আলী : মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বহুল আলোচিত স্যালাইন-কাণ্ডে সাসপেন্ড হওয়া চিকিৎসক ও আধিকারিকদের মধ্যে কয়েকজনের সাসপেনশন অবশেষে প্রত্যাহার করল স্বাস্থ্য দপ্তর। প্রায় দেড় বছর পর ১৯শে জুন,শুক্রবার হাসপাতালে কাজে যোগ দেন তিনজন চিকিৎসক এবং তৎকালীন হাসপাতাল সুপার ডা. জয়ন্ত কুমার রাউত। দীর্ঘদিন পর কর্মস্থলে ফিরতে পেরে স্বস্তি ও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসক মহলের সদস্যরা।প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ৮ জানুয়ারি রাতে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় পাঁচজন প্রসূতির শরীরে রিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইন প্রয়োগ করা হয়। স্যালাইন দেওয়ার পর তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং গুরুতর প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ওই ঘটনায় এক প্রসূতি ও এক নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ ওঠে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি স্বাস্থ্য দপ্তর মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে সাসপেনশনের নির্দেশ জারি করে। সাসপেন্ড হওয়াদের মধ্যে ছিলেন সাতজন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনি, প্রসূতি বিভাগের প্রধান ডা. মহম্মদ আলাউদ্দিন, সিনিয়র রেসিডেন্ট ডা. পল্লবী বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তিনজন চিকিৎসক এবং তৎকালীন হাসপাতাল সুপার ডা. জয়ন্ত কুমার রাউত।পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি সাতজন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনির সাসপেনশন প্রত্যাহার করা হলেও বাকি চিকিৎসক ও হাসপাতাল সুপারের সাসপেনশন বহাল ছিল।

এদিকে, চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি অবসর গ্রহণ করেন প্রসূতি বিভাগের প্রধান ডা. মহম্মদ আলাউদ্দিন। সাসপেন্ড অবস্থায় অবসর নেওয়ার কারণে তিনি অবসরকালীন বিভিন্ন সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। সম্প্রতি স্বাস্থ্য দপ্তর তাঁর সাসপেনশন প্রত্যাহার করে জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়কালকে ‘কর্তব্যরত সময়’ হিসেবে গণ্য করা হবে। ফলে তিনি ওই সময়ের পূর্ণ বেতন-ভাতা, পেনশন এবং অন্যান্য অবসরকালীন সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হবেন।একই সঙ্গে আরও তিনজন চিকিৎসক এবং প্রাক্তন হাসপাতাল সুপার ডা. জয়ন্ত কুমার রাউতের সাসপেনশনও প্রত্যাহার করা হয়েছে। শুক্রবার তাঁরা মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজে যোগ দেন।দীর্ঘদিনের এই প্রশাসনিক জটিলতার অবসানে চিকিৎসক মহলে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তবে স্যালাইন-কাণ্ড নিয়ে বিতর্ক ও তদন্তের স্মৃতি এখনও হাসপাতাল চত্বরে আলোচনার বিষয় হয়ে রয়েছে।