বিদ্যাসাগরের জন্মদিবসে এলাহিয়া হাই মাদ্রাসায় প্রকাশিত ‘স্বদেশ’ দেওয়াল পত্রিকা
নিজস্ব সংবাদদাতা :ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মদিবস উপলক্ষে পশ্চিম মেদিনীপুরের মেদিনীপুর গ্রামীণের অন্তর্গত এলাহিয়া হাই মাদ্রাসা (উচ্চ মাধ্যমিক)-এ প্রকাশিত হল বার্ষিক দেওয়াল পত্রিকা ‘স্বদেশ’। বিদ্যাসাগরের জন্মদিবস পালনের পাশাপাশি পড়ুয়াদের সৃজনশীলতা ও দেশাত্মবোধকে তুলে ধরতেই এই দেওয়াল পত্রিকা প্রকাশ করা হয়।মাদ্রাসার নজরুল ভবনে বিদ্যাসাগরের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান ও পুষ্পার্ঘ্য নিবেদনের মধ্য দিয়ে তাঁর ২০৭তম জন্মবার্ষিকী পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিদ্যাসাগরের শিক্ষা, সমাজ সংস্কার এবং নারীশিক্ষার প্রসারে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্মরণ করা হয়।
এদিন শিক্ষা দফতরের নির্দেশিকা অনুযায়ী ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন কর্মসূচিও অনুষ্ঠিত হয়। তার মধ্যে ছিল চিত্রাঙ্কন ও তাৎক্ষণিক বক্তৃতা প্রতিযোগিতা। পড়ুয়াদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতাগুলিকে ঘিরে উৎসাহের পরিবেশ তৈরি হয়।এরই সঙ্গে বিদ্যাসাগর ও দেশমাতৃকার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয় ‘স্বদেশ’ দেওয়াল পত্রিকা। পত্রিকাটি উন্মোচন করেন এর প্রধান উপদেষ্টা তথা মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক নূর আলম। উপস্থিত ছিলেন পত্রিকার সম্পাদক মির্জা আজিবুর রহমান এবং সহ-সম্পাদক ড. চিত্ততোষ পৈড়া।‘স্বদেশ’-এর পাতায় স্থান পেয়েছে মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীদের লেখা ও আঁকা বিভিন্ন সৃজনশীল কাজ। পড়ুয়াদের ভাবনা, দেশপ্রেম ও সৃজনশীল প্রতিভার পাশাপাশি ইতিহাসের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে এই দেওয়াল পত্রিকায়।
বিশেষভাবে নজর কেড়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ‘জন গণ মন’-এর অংশবিশেষকে কেন্দ্র করে ১৯১১ সালের ভারতের রাজনৈতিক-ভৌগোলিক পরিসরের উপস্থাপনা। সেখানে ‘পাঞ্জাব, সিন্ধু, গুজরাট, মারাঠা, দ্রাবিড়, উৎকল, বঙ্গ, বিন্ধ্য, হিমাচল, যমুনা, গঙ্গা’—এই উল্লেখগুলির মাধ্যমে তৎকালীন ভারতের বিস্তৃত ভূখণ্ডকে তুলে ধরা হয়েছে।পত্রিকার নান্দনিক অলংকরণের দায়িত্বে ছিলেন মাদ্রাসার শিক্ষক নরসিংহ দাস ও সৈকত প্রধান। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সহযোগিতা এবং ছাত্রছাত্রীদের সৃজনশীল অংশগ্রহণে ‘স্বদেশ’ দেওয়াল পত্রিকা শুধু একটি প্রকাশনা নয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও দেশাত্মবোধ চর্চারও একটি সুন্দর উদ্যোগ হয়ে উঠেছে।