ইংলিশ থেকে পাক, এবার ক্যাটলিনা—প্রশান্তের বুক চিরে ঘরে ফিরলেন মেদিনীপুরের জলকন্যা।

নিজস্ব সংবাদদাতা : উত্তাল প্রশান্ত মহাসাগর, হাড়কাঁপানো ঠান্ডা জল, প্রবল স্রোত, রাতের অন্ধকার আর বারবার জেলিফিশের আক্রমণ—সব প্রতিকূলতাকে পেরিয়ে ক্যাটলিনা চ্যানেল জয় করে রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর মেদিনীপুরের মাটিতে ফিরলেন শহরের গর্ব, সাঁতারু আফরিন জাবি। তাঁর এই ঐতিহাসিক সাফল্যকে ঘিরে উচ্ছ্বাসে মেতে উঠল মেদিনীপুর। এদিন অন্বেষণা হাসপাতালের উদ্যোগে আফরিনকে নাগরিক সংবর্ধনা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে নিজের ক্যাটলিনা জয়ের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

প্রায় ৩২.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ কঠিন সমুদ্রপথ পাড়ি দিতে আফরিনের সময় লেগেছে প্রায় ১৫ ঘণ্টা ৫১ সেকেন্ড।। দীর্ঘ এই জলযাত্রায় এক মুহূর্তের জন্যও সহজ ছিল না লড়াই। কনকনে ঠান্ডা জল, সমুদ্রের প্রবল স্রোত, অন্ধকার এবং একের পর এক জেলিফিশের হানা—সবকিছুকে উপেক্ষা করে লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন মেদিনীপুরের এই সাঁতারু।

ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলের অন্যতম কঠিন ওপেন-ওয়াটার সাঁতারপথ হিসেবে পরিচিত ক্যাটলিনা চ্যানেল জয় আফরিনের ক্রীড়াজীবনে আরও একটি বড় মাইলফলক। এর আগে ইংলিশ চ্যানেল এবং পাক প্রণালী জয় করেছিলেন তিনি। এবার ক্যাটলিনার কঠিন জলপথ পেরিয়ে আন্তর্জাতিক ওপেন-ওয়াটার সাঁতারে নিজের সাফল্যের তালিকায় আরও একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় যোগ করলেন।তবে এই সাফল্যের পথ মোটেই মসৃণ ছিল না। আর্থিক সীমাবদ্ধতা, দীর্ঘদিনের কঠোর অনুশীলন এবং সমুদ্রের প্রতিকূল পরিবেশ—প্রতিটি বাধাকেই ধাপে ধাপে অতিক্রম করতে হয়েছে তাঁকে। প্রশিক্ষণ থেকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি, সব ক্ষেত্রেই ছিল কঠিন পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের পরীক্ষা।রবিবার মেদিনীপুরে ফিরে নাগরিক সংবর্ধনায় নিজের সেই লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন আফরিন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে সমুদ্রের ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্যেও লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা।

বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে ঠান্ডা জলে সাঁতার কাটা এবং জেলিফিশের আক্রমণের মধ্যেও কীভাবে নিজের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হননি, সেই অভিজ্ঞতা শুনে উপস্থিত মানুষজনও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।আফরিনের এই সাফল্যে নতুন করে গর্বিত মেদিনীপুর। সীমিত আর্থিক সামর্থ্যকে সঙ্গী করে আন্তর্জাতিক স্তরের কঠিন ওপেন-ওয়াটার সাঁতারে একের পর এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। ক্যাটলিনা চ্যানেল জয় তাই শুধু একটি সমুদ্রপথ অতিক্রমের সাফল্য নয়; এটি দীর্ঘ প্রস্তুতি, অধ্যবসায় এবং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে অবিচল থাকার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।মেদিনীপুরের ‘জলকন্যা’র এই সাফল্য আগামী দিনে জেলার তরুণ প্রজন্মের ক্রীড়াপ্রেমীদেরও নতুন করে অনুপ্রাণিত করবে—এমনটাই মনে করছেন তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীরা।