নেপালে বন্যার তাণ্ডব, নিখোঁজ স্বজনের জন্য প্রতীকী শেষকৃত্য!

নিজস্ব সংবাদদাতা :হিমবাহ ধসের জেরে ২৬ আগস্ট চীন-নেপাল সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ হড়পা বন্যায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পর এক সপ্তাহ কেটে গেলেও এখনও নিখোঁজ বহু মানুষ। ভয়াবহ হড়পা বন্যার এক সপ্তাহ পরও নেপালের হিমালয় অঞ্চলে কাটেনি স্বজন হারানোর শোক। নিখোঁজ পরিজনদের সন্ধানে একদিকে পরিবারের সদস্যরা DNA নমুনা দিচ্ছেন, অন্যদিকে আশা ছেড়ে নিখোঁজদের প্রতীকী শেষকৃত্যও শুরু হয়েছে। ২৬ আগস্ট হিমবাহ ধসের পর চীন-নেপাল সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকা দিয়ে নেমে আসা বরফশীতল জল, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোতে কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় একাধিক গ্রাম ও বসতি।নেপালের উচ্চ পার্বত্য জেলা রাসুয়া ছিল এই বিপর্যয়ের প্রথম এবং অন্যতম সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা। প্রশাসনিক আধিকারিক ধ্রুব প্রসাদ অধিকারি পরিস্থিতিকে ‘কল্পনার অতীত বিপর্যয়’ বলে উল্লেখ করেছেন। দুর্গম ও কাদায় ভরা রাস্তা পেরিয়ে দীর্ঘ যাত্রার পর এলাকায় পৌঁছনো সম্ভব হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।এদিকে রাজধানী কাঠমান্ডুতে নিখোঁজ আত্মীয়দের দেহ শনাক্ত করার আশায় শত শত মানুষ DNA নমুনা দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। মৃতদেহ রাখার স্থানগুলিতে চাপ বাড়ায় ইতিমধ্যেই কিছু দেহ সমাহিত করা হয়েছে।অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে কোনও খোঁজ না মেলায় অনেক পরিবার কার্যত আশা ছেড়ে দিয়েছে। হিন্দু রীতি মেনে নিখোঁজ স্বজনদের আত্মার শান্তির উদ্দেশ্যে প্রতীকী শেষকৃত্য পালন করছেন তাঁরা। খড়ের তৈরি প্রতীকী দেহ পুড়িয়ে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হচ্ছে।

স্বামীকে হারানোর পর এমনই এক প্রতীকী শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন ডলমা নিউয়ার তামাং। চোখের জলে তিনি জানান, স্বামীর আত্মার মুক্তি এবং শান্তির জন্যই এই শেষকৃত্য করতে হয়েছে।তবে উদ্ধারকারী দল এখনও আশা ছাড়েনি। জীবিতদের সন্ধানে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একাধিক সুড়ঙ্গ কাদামাটি ও ধ্বংসাবশেষে পুরোপুরি চাপা পড়েছে। উদ্ধারকারীরা সেখানে খনন, ড্রিলিং এবং প্রয়োজনে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এখনও পর্যন্ত ওই সুড়ঙ্গগুলি থেকে জীবিত কাউকে নয়, মৃতদেহই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিসির খানাল এখনও নিখোঁজদের মধ্যে কেউ জীবিত থাকতে পারেন বলে আশাবাদী। তাঁর কথায়, “অলৌকিক ঘটনাও ঘটে। এই মুহূর্তে আমি সম্পূর্ণভাবে আশা ছেড়ে দিতে চাই না।”