তামিলনাড়ুর থুথুকুডি জেলার সাত্তানকুলাম কাণ্ডে ঐতিহাসিক রায়,হেফাজতে বাবা–ছেলেকে নির্যাতন করে খুন, ৯ পুলিশকর্মীর মৃত্যুদণ্ড; ক্ষতিপূরণ ১.৪০ কোটি!

নিজস্ব সংবাদদাতা : দেশজুড়ে আলোড়ন ফেলা ২০২০ সালের তামিলনাড়ুর থুথুকুডি জেলার সাত্তানকুলাম হেফাজতে মৃত্যু মামলায় অবশেষে ঐতিহাসিক রায় দিল মাদুরাইয়ের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালত। ৬ এপ্রিল, সোমবার বিচারক জি. মুথুকুমারান এই ঘটনাকে ‘বিরলের মধ্যে বিরলতম’ বলে উল্লেখ করে তামিলনাড়ু পুলিশের ৯ জন কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন।

একই সঙ্গে নিহত ব্যবসায়ী পি. জয়রাজ এবং তাঁর ছেলে জে. বেনিক্স-এর পরিবারকে মোট ১.৪০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।ঘটনাটি ২০২০ সালের জুন মাসের। কোভিড লকডাউনের সময় দোকান খোলা রাখার মতো সামান্য অভিযোগে বাবা ও ছেলেকে থানায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ, সারারাত তাঁদের উপর অমানবিক মারধর ও নির্মম নির্যাতন চালানো হয়, এমনকি যৌন নির্যাতনের অভিযোগও ওঠে। গুরুতর জখম অবস্থায় দু’জনকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হলেও পরে হাসপাতালে তাঁদের মৃত্যু হয়— ২২ জুন বেনিক্স এবং ২৩ জুন জয়রাজের। এই ঘটনা সেই সময় দেশজুড়ে পুলিশি বর্বরতার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল।

দোষী সাব্যস্তদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন ইন্সপেক্টর এস. শ্রীধর, সাব-ইন্সপেক্টর পি. রঘু গণেশ ও কে. বালাকৃষ্ণন, হেড কনস্টেবল এস. মুরুগান ও এ. সামিদুরাই, এবং কনস্টেবল এম. মুথুরাজ, এস. চেল্লাদুরাই, থমাস ফ্রান্সিস ও এস. ভেইলুমুথু। মামলার দশম অভিযুক্ত বিশেষ সাব-ইন্সপেক্টর পলদুরাই বিচার চলাকালীন কোভিডে মারা যান।এই ঘটনার পর মাদ্রাজ হাইকোর্টের মাদুরাই বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলাটি আমলে নেয় এবং পরে তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়। দীর্ঘ পাঁচ বছরের বিচারপ্রক্রিয়ায় ১০০-র বেশি সাক্ষীর বয়ান নেওয়া হয়। চলতি বছরের ২৩ মার্চ ৯ পুলিশকর্মীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল, আর সোমবার ঘোষণা হল শাস্তির মাত্রা।এই রায়কে মানবাধিকার ও পুলিশি জবাবদিহির ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক নজির বলে মনে করছেন আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীরা। তবে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার আগে মাদ্রাজ হাইকোর্টের অনুমোদন এবং পরবর্তী আপিল প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে।