‘মুখ্যমন্ত্রীর প্রচার’ দেখানো নিয়ে বিতর্ক, প্রতিবাদ করতেই শিক্ষক প্রহৃত!
অভিজিৎ সাহা: নির্বাচনের আবহে নদিয়ার রানাঘাটে ভোটকর্মীদের প্রশিক্ষণ শিবির ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, প্রশিক্ষণ চলাকালীন রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক ভিডিও দেখানোকে কেন্দ্র করে আপত্তি জানান এক শিক্ষক। এরপর তাঁকে ঘরে আটকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে বিডিও অফিসের কর্মীদের বিরুদ্ধে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট বিডিও, পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধেই।ঘটনাটি ঘটে রানাঘাট-১ ব্লকের দেবনাথ ইনস্টিটিউট ফর বয়েজ় স্কুলে। প্রহৃত শিক্ষকের নাম সৈকত চট্টোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, ভোটের প্রশিক্ষণে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়নমূলক প্রচার দেখানো হচ্ছিল। এর প্রতিবাদ করায় কয়েকজন তাঁকে হুমকি দিয়ে একটি ঘরে টেনে নিয়ে গিয়ে মারধর করে। এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাঁর। সহকর্মীদের একাংশও ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। আহত শিক্ষককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তিনি নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।এদিকে, রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ Jagannath Sarkar এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে দাবি করেছেন, রাজনৈতিক কারণে এই হামলা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, প্রহৃত শিক্ষক বিজেপি সমর্থক হওয়ায় তাঁকে টার্গেট করা হয়েছে। অন্যদিকে হাঁসখালির বিডিও সায়ন্তন ভট্টাচার্য সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষকই প্রশিক্ষণে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর দাবি, ধাক্কাধাক্কির সময় পড়ে গিয়ে ওই শিক্ষকের চোট লাগে। এমনকি তাঁর মানসিক স্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিডিও। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতর তুঙ্গে উঠেছে। নির্বাচন-পূর্ব পরিস্থিতিতে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।