বিপদের দিনে পাশে ছিলেন রক্তযোদ্ধা,তাঁর হাতেই রাখি—মেদিনীপুরে অনন্য নজির

নিজস্ব সংবাদদাতা : রক্তের সম্পর্ক নয়, তবু রক্তের বন্ধনেই তৈরি হয়েছিল এক গভীর আত্মিক সম্পর্ক। সেই সম্পর্কই রাখি পূর্ণিমার দিনে পেল আরও এক নতুন মাত্রা। মেদিনীপুর শহর সাক্ষী থাকল এমনই এক মানবিক রাখী বন্ধনের।অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার রক্তদান আন্দোলনের পরিচিত মুখ তথা রক্তযোদ্ধা শিক্ষক সুদীপ কুমার খাঁড়ার হাতে রাখি বাঁধলেন সেই অনিন্দিতা সেন গুঁড়া, যাঁর সন্তান জন্মের সময় জরুরি প্রয়োজনে রক্তের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন সুদীপবাবু।শালবনী ব্লকের চাঁদাবিলা গ্রামের বাসিন্দা তথা কুতুরিয়া জুনিয়র হাইস্কুলের শিক্ষক কৃষ্ণ গুঁড়া এবং তাঁর স্ত্রী অনিন্দিতা সেন গুঁড়ার প্রথম সন্তান হৃষিকেশ গত বছর ৭ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করে। সন্তান প্রসবের আগে একাধিক চিকিৎসাজনিত জটিলতার পাশাপাশি অনিন্দিতার চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন হয়েছিল AB+ রক্তের।সেই কঠিন সময়ে রক্তদাতা খুঁজে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন চুয়াডাঙ্গা হাইস্কুলের শিক্ষক ও রক্তযোদ্ধা সুদীপ কুমার খাঁড়া। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে সেদিন সন্ধ্যায় অনিন্দিতার জন্য রক্তদান করতে এগিয়ে আসেন চাঁদড়া হাইস্কুলের শিক্ষিকা অন্তরা ঘোষ। তাঁদের সহযোগিতায় সেদিন বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছিল পরিবারটি।পরবর্তীতে ছেলের অন্নপ্রাশনের অনুষ্ঠান গড়বেতায় আয়োজন করেছিলেন কৃষ্ণ-অনিন্দিতারা। সেখানেও সুদীপবাবুকে সপরিবারে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তাঁরা। তবে সেই সময় ব্যস্ততার কারণে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি সুদীপবাবু।বর্তমানে কৃষ্ণবাবুরা কেরানী চটি এলাকায় থাকেন। আর রাখী পূর্ণিমার শুক্রবার সন্ধ্যায় স্বামী কৃষ্ণ গুঁড়া ও সন্তান হৃষিকেশকে সঙ্গে নিয়ে সুদীপবাবুর সুজাগঞ্জের বাড়িতে হাজির হন অনিন্দিতা। সেখানে সুদীপ কুমার খাঁড়ার হাতে রাখি বাঁধেন তিনি। মুহূর্তটি আরও আবেগঘন হয়ে ওঠে সুদীপবাবুর স্ত্রী মৃন্ময়ী খাঁড়া এবং কন্যা সম্প্রীতি খাঁড়ার উপস্থিতিতে। ছিল মিষ্টিমুখের আয়োজনও।