নকআউটের মহাযুদ্ধ! ব্রাজিলকে থামিয়ে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে জাপান...
নিজস্ব সংবাদদাতা : ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সোমবার ফুটবলপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করছে এক আকর্ষণীয় লড়াই। মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এবং এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল জাপান। টেক্সাসের হিউস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে চলা এই হাইভোল্টেজ লড়াই ঘিরে ইতিমধ্যেই উন্মাদনা তুঙ্গে। পরিসংখ্যান ব্রাজিলের পক্ষেই কথা বললেও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর জাপানও চমক দেখানোর স্বপ্ন দেখছে।গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত ছন্দে ছিল ব্রাজিল। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিরুদ্ধে ড্র করার পর হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপের শীর্ষে থেকে নকআউটে পৌঁছেছে কার্লো আনচেলত্তির দল। টানা দুই ম্যাচে ক্লিন শিট রেখে সাতটি গোল করায় আত্মবিশ্বাসী সেলেসাও শিবির। দীর্ঘদিন পর দলে ফিরেছেন নেইমারও, যা ব্রাজিলের শক্তি আরও বাড়িয়েছে। আক্রমণে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। গ্রুপ পর্বেই চারটি গোল করে তিনি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সেরা গোলদাতাদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। অন্যদিকে মাতেউস কুনহা এবং তরুণ রায়ানও নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে নজর কেড়েছেন।
জাপানও নকআউটে এসেছে লড়াই করে। নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের বিরুদ্ধে ড্র এবং তিউনিসিয়ার বিরুদ্ধে ৪-০ জয় তাদের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়েছে। অধিনায়ক ওয়াতারু এন্দো ও কাওরু মিতোমা চোটের কারণে না থাকলেও দলটি টানা ১০ ম্যাচ অপরাজিত। আয়াসে উয়েদা ইতিমধ্যেই তিন গোল করে জাপানের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছেন। ইতিহাস অবশ্য ব্রাজিলের পক্ষেই। দুই দলের ১৪টি সাক্ষাতে ১১ বার জিতেছে ব্রাজিল, জাপানের জয় মাত্র একটি। তবে সেই একমাত্র জয় এসেছে সর্বশেষ ম্যাচেই, যখন টোকিওতে ব্রাজিলকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছিল সামুরাই ব্লু। তাই অতীতের রেকর্ড নয়, বর্তমান ফর্মই হতে পারে এই ম্যাচের আসল নির্ণায়ক। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রাজিল এই ম্যাচে স্পষ্ট ফেবারিট হলেও জাপানের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ, দ্রুত পাল্টা আক্রমণ এবং দলগত ফুটবল সেলেসাওদের জন্য বড় পরীক্ষার কারণ হতে পারে। ফলে শেষ ১৬-তে ওঠার লড়াইয়ে দুই দলের এই মহারণ বিশ্বকাপের অন্যতম উপভোগ্য ম্যাচ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।