বিষ্ণুপুরের ডিহরে ইতিহাসের সাক্ষী: ষাঁড়েশ্বর-শৈলেশ্বরের প্রাচীন শিবমন্দির!

নিজস্ব সংবাদদাতা : বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর ব্লকের ডিহর গ্রামে দ্বারকেশ্বর নদীর তীরে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে রয়েছে প্রাচীন দুই শিবমন্দির—ষাঁড়েশ্বর ও শৈলেশ্বর। ল্যাটেরাইট পাথরে নির্মিত এই ঐতিহাসিক মন্দির দু’টি বর্তমানে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (ASI)-এর তত্ত্বাবধানে রয়েছে।ইতিহাসের পাতায় উল্লেখ রয়েছে, চতুর্দশ শতাব্দীতে বিষ্ণুপুরের ৩৭তম মল্লরাজ পৃথ্বীমল্লের আমলে এই মন্দিরগুলি নির্মিত হয়।

বিষ্ণুপুর শহর থেকে মাত্র আট কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই দুই মন্দির আজও এলাকার মানুষের ধর্মীয় আবেগের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। প্রতিদিনই পুজো দিতে ভক্তদের সমাগম হয়। পাশাপাশি ইতিহাস ও স্থাপত্যের টানে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরাও এখানে আসেন।

মন্দির দু’টিকে ঘিরে চৈত্র মাসে বসে ঐতিহ্যবাহী গাজনের মেলা। এছাড়াও বছরের আরও কয়েকটি মেলাকে কেন্দ্র করে মন্দির চত্বর হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। স্থানীয়দের কাছে এই মন্দির শুধু ধর্মীয় স্থান নয়, বরং এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ স্মারক।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মন্দিরের স্থাপত্যে ক্ষয়ের চিহ্নও দেখা দেয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ষাঁড়েশ্বর মন্দিরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া একটি কানা নদীর জলের স্রোতে মন্দিরের গোড়ার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর জেরে মন্দিরের কাঠামোয় ফাটল দেখা দেয়। পরবর্তীকালে ভূমিকম্পের কারণে সেই ফাটল আরও বড় আকার নেয়। এরপরই মন্দির সংরক্ষণ ও সংস্কারের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে।

অবশেষে ২০২০ সালে মন্দিরটির সংরক্ষণ ও সংস্কারের কাজে হাত দেয় আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া। সংস্কারের জন্য ওড়িশা থেকে দক্ষ কারিগরও আনা হয়। ফলে ইতিহাসের সাক্ষী এই প্রাচীন মন্দিরকে সংরক্ষণের উদ্যোগ নতুন আশার সঞ্চার করে স্থানীয়দের মধ্যে।দ্বারকেশ্বরের তীরে দাঁড়িয়ে থাকা ষাঁড়েশ্বর ও শৈলেশ্বর আজও বহন করে চলেছে মল্লভূমের প্রাচীন ইতিহাস, ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং বাংলার স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য স্মৃতি।