জেলা পরিষদের দোকানের ভাড়া বকেয়া ৬৮ লক্ষেরও বেশি! তালিকা তৈরি, এবার কড়া পদক্ষেপের পথে প্রশাসন!
অভিজিৎ সাহা : দোকান খুলছে প্রতিদিন, চলছে রমরমিয়ে ব্যবসাও। অথচ বছরের পর বছর জেলা পরিষদের দোকানঘর ও স্টলের ভাড়া বকেয়া রেখেছেন একাংশ ব্যবসায়ী—এমনই অভিযোগ সামনে এসেছে পশ্চিম মেদিনীপুরে। এবার সেই বকেয়া টাকা আদায়ে কড়া অবস্থান নিতে চলেছে জেলা প্রশাসন।প্রশাসন সূত্রে খবর, মেদিনীপুর শহরেই জেলা পরিষদের দোকানঘর ও স্টলের ভাড়া বাবদ প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা বকেয়া রয়েছে। ইতিমধ্যেই বকেয়াদার ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এমনকী প্রয়োজনে এফআইআর দায়েরের পথেও হাঁটতে পারে জেলা পরিষদ। গোটা বিষয়টি জেলাশাসক নিজে নজরদারি করছেন বলেও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।জেলা পরিষদ ও পঞ্চায়েত সমিতিগুলির নিজস্ব আয়ের অন্যতম উৎস হল ফেরিঘাট ও পুকুর লিজ, হল ও গেস্ট হাউস এবং বিভিন্ন দোকানঘরের ভাড়া। এই আয়ের অর্থ থেকেই উন্নয়নমূলক কাজের পাশাপাশি চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বেতন, বিদ্যুৎ বিল, গাড়ি ভাড়াসহ নানা প্রশাসনিক খরচ মেটানো হয়। ফলে দীর্ঘদিন দোকানঘরের ভাড়া বকেয়া থাকায় আর্থিক চাপ বাড়ছে বলে মনে করছে প্রশাসন।প্রশাসন সূত্রে পাওয়া হিসাব অনুযায়ী, মেদিনীপুর সুপার মার্কেট কমপ্লেক্সের ১৮০টি দোকান থেকে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা ভাড়া বকেয়া রয়েছে। এছাড়া বেলদা মার্কেট কমপ্লেক্সের ৩০টি দোকানে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা, বালিচকের ২০টি দোকানে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা এবং শালবনীর ১২টি দোকানে প্রায় ৪ লক্ষ ২০ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে।শুধু ভাড়া না দেওয়াই নয়, জেলা পরিষদের কিছু দোকানঘর মোটা টাকার বিনিময়ে অন্য ব্যবসায়ীর হাতে বেআইনিভাবে তুলে দেওয়ার অভিযোগও প্রশাসনের নজরে এসেছে। সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেও খোঁজখবর শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।এক ব্যবসায়ীর দাবি, করোনা পর্ব থেকেই ব্যবসায় মন্দা দেখা দেয়। সেই সময় থেকেই ধীরে ধীরে ভাড়ার টাকা জমতে শুরু করে। যদিও প্রশাসনের স্পষ্ট বক্তব্য, ব্যবসায়িক পরিস্থিতি যেমনই হোক, জেলা পরিষদের দোকান ব্যবহার করে ব্যবসা চালালে নিয়ম অনুযায়ী ভাড়াও পরিশোধ করতে হবে।জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা বলেন, ‘‘অনেকেই দোকানে ব্যবসা চালালেও নিয়মিত ভাড়া দিচ্ছেন না। বারবার বলা সত্ত্বেও অনেকে বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছেন না। প্রয়োজনে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। কোনও অনৈতিক কাজ বরদাস্ত করা হবে না।’’মেদিনীপুরের বাসিন্দা চন্দন রায়ের বক্তব্য, জেলা পরিষদের মার্কেটগুলির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি। তাঁর কথায়, ‘‘ভাড়া বাবদ টাকা না এলে মার্কেটগুলির রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য পরিষেবা চালানো কঠিন। দোকান থেকে ব্যবসায়ীদের আয় হচ্ছে, তাই নিয়ম মেনে ভাড়াও দেওয়া উচিত।’’এখন প্রশ্ন, বছরের পর বছর জমে থাকা এই বিপুল বকেয়া কীভাবে আদায় করে প্রশাসন। বকেয়াদারদের তালিকা তৈরির পর এবার বাস্তবে কতটা কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর পশ্চিম মেদিনীপুরের ব্যবসায়ী ও প্রশাসনিক মহলের।