কোহলি বিতর্কের ছায়া কাটল না, ৫ বছর সুযোগহীন থেকে অবশেষে অবসর বাংলাদেশি পেসারের

নিজস্ব সংবাদদাতা: বাংলাদেশ ক্রিকেটের এক পরিচিত গতি-তারকার অধ্যায়ের ইতি। দীর্ঘ পাঁচ বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকার হতাশা, চোট-আঘাতের সঙ্গে লড়াই এবং প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষা—সব কিছুর অবসান ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা করলেন Rubel Hossain। বুধবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ৩৬ বছরের এই ডানহাতি পেসার বিদায়ের সিদ্ধান্ত জানান।রুবেল তাঁর আবেগঘন বার্তায় লিখেছেন, “আমি পেসার রুবেল হোসেন। বাংলাদেশের হয়ে ২৭টি টেস্ট, ১০৪টি ওয়ানডে এবং ২৮টি টি-টোয়েন্টি খেলেছি। জাতীয় দল আমার আবেগ। কিন্তু এক সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাতেই হয়।” একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যেতে চান। পরিবার, বন্ধু, সংবাদমাধ্যম ও সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।জাতীয় দলের হয়ে রুবেলের শেষ ম্যাচ ছিল ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে অকল্যান্ডে একটি টি-টোয়েন্টি। এরপর আর কোনও ফরম্যাটেই সুযোগ মেলেনি। চোট-আঘাত এবং ধারাবাহিকতার অভাব তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবু বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন ২০১৫ বিশ্বকাপের সেই ঐতিহাসিক ইংল্যান্ড ম্যাচের জন্য। অ্যাডিলেডে তাঁর ৪ উইকেটের দুরন্ত স্পেলই বাংলাদেশকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছিল।রুবেলের ক্রিকেটজীবনের আরেকটি আলোচিত অধ্যায় ছিল Virat Kohli-র সঙ্গে মাঠের উত্তেজনা। অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে কোহলির স্লেজিংকে কেন্দ্র করে দু’জনের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়, যা পরে ক্রিকেটমহলে বেশ আলোচিত হয়েছিল। ২০১১ বিশ্বকাপ এবং ২০১৫ বিশ্বকাপেও দু’জনকে ঘিরে উত্তেজনার মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল। সেই বিতর্কই রুবেলকে ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছেও পরিচিত মুখ করে তোলে।২০০৯ সালে পেস বোলিং ট্যালেন্ট হান্ট থেকে উঠে আসা রুবেল তাঁর স্লিং-অ্যাকশন এবং ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতির জন্য দ্রুত নজর কাড়েন। ১০৪টি ওয়ানডেতে ১২৯ উইকেট, ২৮টি টি-টোয়েন্টিতে ২৮ উইকেট এবং ২৭টি টেস্টে ৩৬ উইকেট—পরিসংখ্যানের বাইরেও বাংলাদেশের সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। বিশেষ করে ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৬/২৬ এবং হ্যাটট্রিক আজও সমর্থকদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল।