খিদের ছোবলে কাঁপছে বিশ্ব! ১০ দেশের ওপরই ভর করছে সঙ্কট, তালিকায় ভারতের চার প্রতিবেশী

নিজস্ব সংবাদদাতা: বিশ্বজুড়ে খাদ্য সঙ্কট ক্রমশ ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। বাড়ছে অনাহার, বাড়ছে অনিশ্চয়তা। রাষ্ট্রপুঞ্জে পেশ করা ‘গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিস’ শীর্ষক সাম্প্রতিক রিপোর্টে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক চিত্র—বিশ্বের অন্তত ৪৭টি দেশে প্রায় ২৬ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষ বর্তমানে তীব্র খাদ্য সঙ্কটের মুখে দিন কাটাচ্ছেন।রিপোর্টে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, মাত্র ১০টি দেশেই কেন্দ্রীভূত বিশ্বের মোট অনাহারক্লিষ্ট মানুষের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। অর্থাৎ, বিশ্বে ক্ষুধার সবচেয়ে বড় বোঝা বহন করছে এই দেশগুলিই। আরও উদ্বেগের বিষয়, তালিকায় রয়েছে ভারতের চার প্রতিবেশী—পাকিস্তান, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ এবং মায়ানমার।এই তালিকার বাকি দেশগুলির মধ্যে রয়েছে ডিআর কঙ্গো, নাইজেরিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া এবং ইয়েমেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই দেশগুলির অধিকাংশই দীর্ঘদিন ধরে গৃহযুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সন্ত্রাসবাদের কবলে। ফলে খাদ্য উৎপাদন, সরবরাহ এবং বিতরণ—সব ক্ষেত্রেই ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।রিপোর্টে আরও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, ২০২৬ সালের শেষের দিকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি খাদ্য সঙ্কটকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। যুদ্ধের কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন, অন্যদিকে কৃষি উৎপাদনের খরচ লাগামছাড়া হারে বাড়ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে খাদ্যপণ্যের দামে।এছাড়াও, আন্তর্জাতিক সাহায্য কমে যাওয়াও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খাদ্য সঙ্কটে জর্জরিত দেশগুলির জন্য যে পরিমাণ সহায়তা প্রয়োজন, তা মিলছে না বলেই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।প্রসঙ্গত, চলতি মাসের শুরুতেই আন্তর্জাতিক অর্থভান্ডার (IMF), বিশ্ব ব্যাঙ্ক এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) যৌথভাবে সতর্কবার্তা দিয়েছিল—বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে এবং খাদ্য সঙ্কট ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পিছনে মূল কারণ পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ এবং তার জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা।সব মিলিয়ে, বিশ্ব এখন এক গভীর খাদ্য সঙ্কটের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে, আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলেই আশঙ্কা বিশেষজ্ঞ মহলের।